ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক মস্কোর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে ইউক্রেন রাশিয়ার সরকারি সাইটগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তিনি এই অভিযোগগুলোকে "ইচ্ছাকৃতভাবে মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানোর কৌশল" এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে বানচাল করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে করা মন্তব্যে কাজা কালাসকে ক্রেমলিনের সেই অভিযোগের প্রতি ইঙ্গিত করতে দেখা যায়, যেখানে বলা হয়েছে ইউক্রেন ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনগুলোর মধ্যে একটিতে ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল।
কালাস বলেন, "কারও আগ্রাসকের কাছ থেকে ভিত্তিহীন দাবি গ্রহণ করা উচিত নয়, যে নির্বিচারে ইউক্রেনের অবকাঠামো ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।" মস্কো এই সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার ভালদাই লেকের ধারে পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবনে হামলার অভিযোগ করার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, কথিত হামলার ফলে রাশিয়া চলমান শান্তি আলোচনায় তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ প্রাথমিকভাবে এই দাবি জানানোর পর থেকে, রুশ রাষ্ট্রীয় মিডিয়া এবং রাজনীতিবিদরা প্রায়শই তীব্র ভাষা ব্যবহার করে অভিযোগগুলো আরও বাড়িয়ে তুলেছেন। রুশ পার্লামেন্টের প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ कथित হামলাকে "রাশিয়ার হৃদয়ে আঘাত" বলে বর্ণনা করেছেন বলে জানা গেছে।
রাশিয়ার দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে ইইউ শারীরিক সংঘাতের পাশাপাশি চলমান তথ্যযুদ্ধের ওপর আলোকপাত করেছে। প্রায়শই অত্যাধুনিক এআই-চালিত সরঞ্জাম দ্বারা প্রচারিত ভুল তথ্য ছড়ানো, বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন এবং তথ্যের ভিত্তিতে জনসাধারণের আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এআই অ্যালগরিদমগুলো বাস্তবসম্মত ভুয়া নিউজ আর্টিকেল তৈরি করতে, ছবি এবং ভিডিও (ডিপফেক) কারসাজি করতে এবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য বিশ্বাসযোগ্য সোশ্যাল মিডিয়া বট তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রযুক্তিগুলো দ্রুত মিথ্যাNarrative ছড়াতে এবং বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যার ফলে ব্যক্তিদের সত্য থেকে মিথ্যাকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তথ্যযুদ্ধে এআই-এর ব্যবহার গুরুতর সামাজিক প্রভাব ফেলে। বৈধ সংবাদমাধ্যম এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে আস্থা হ্রাস গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিক্রিয়ায় বাধা দিতে পারে। উপরন্তু, ভুল তথ্য প্রচারণার অটোমেশন的事实-যাচাইয়ের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে এবং মিথ্যাNarrativeগুলোর মোকাবিলা করা ক্রমশ কঠিন করে তুলতে পারে।
এআই-এর সাম্প্রতিক অগ্রগতি, যেমন জেনারেটিভ অ্যাডভারসারিয়াল নেটওয়ার্ক (GANs), অত্যন্ত বাস্তবসম্মত জাল কনটেন্ট তৈরি করা সহজ করে দিয়েছে। GANs-এর মধ্যে দুটি নিউরাল নেটওয়ার্ক একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে: একটি জাল ডেটা তৈরি করে, অন্যটি এটিকে আসল ডেটা থেকে আলাদা করার চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়াটি ক্রমবর্ধমান বিশ্বাসযোগ্য জালিয়াতির সৃষ্টি করে।
ইইউ ইউরোপীয় ডিজিটাল মিডিয়া অবজারভেটরি (EDMO)-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যা স্বাধীন的事实-যাচাইকারী এবং গবেষকদের ভুল তথ্য প্রচারণার বিশ্লেষণ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ইইউ-এর ভুল তথ্যের ওপর একটি আচরণবিধিও রয়েছে, যার লক্ষ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং শারীরিক সংঘাত ও তথ্যযুদ্ধ উভয় ক্ষেত্রেই আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংলাপ ও উত্তেজনা হ্রাসের প্রচেষ্টা চলছে। রাশিয়ার ভুল তথ্য হিসেবে বিবেচিত তথ্যের বিরুদ্ধে ইইউ-এর দৃঢ় অবস্থান তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর করা দাবিগুলোর সমালোচনামূলক মূল্যায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment