মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে তিনি শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং পোর্টল্যান্ড থেকে ন্যাশনাল গার্ড সৈন্যদের প্রত্যাহার করছেন, যা মোতায়েন নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার পর নীতির পরিবর্তন নির্দেশ করে। ট্রাম্প বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং দাবি করেন যে ন্যাশনাল গার্ডের উপস্থিতির কারণে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যদিও আদালত তাদের কার্যক্রম সীমিত করেছে।
এই পদক্ষেপটি ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহরগুলোতে ফেডারেল বাহিনী মোতায়েনকে ঘিরে কয়েক মাসের বিতর্কের পর এলো। ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছিলেন যে ক্রমবর্ধমান অপরাধের হার এবং নাগরিক অস্থিরতা মোকাবিলা করার জন্য এটি প্রয়োজনীয় ছিল। তবে সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন যে রাষ্ট্রপতি আসন্ন নির্বাচনের আগে ভিন্নমত দমন করতে এবং রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য ন্যাশনাল গার্ড ব্যবহার করছেন। এই মোতায়েন ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, অনেক বাসিন্দা ফেডারেল সৈন্যদের উপস্থিতি নির্বাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার এবং রাজ্যের অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন শহরগুলোতে ফেডারেল বাহিনীর ব্যবহার একটি জটিল ইতিহাস, যা প্রায়শই জাতি, নাগরিক অধিকার এবং ফেডারেলিজমের সঙ্গে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৬০-এর দশকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সময়, রাজ্য এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিরোধের মুখে ন্যাশনাল গার্ডকে জাতিগত বিভাজন দূর করার আদেশ কার্যকর করার জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল। অতি সম্প্রতি, ন্যাশনাল গার্ডকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাগরিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা হুমকির প্রতিক্রিয়া জানাতে ব্যবহার করা হয়েছে, তবে এই ধরনের মোতায়েন সাধারণত রাজ্য গভর্নরদের অনুরোধে ঘটে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কিছু পর্যবেক্ষক অন্যান্য দেশে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন। অনেক দেশে, দেশের নিজস্ব সীমানার মধ্যে সামরিক বাহিনীর মোতায়েনকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়, যা নাগরিক স্বাধীনতা হ্রাস এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সংযম এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও বিক্ষোভের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার আহ্বান জানিয়েছে।
যদিও ট্রাম্প বলেছেন যে ন্যাশনাল গার্ড প্রত্যাহার করা হচ্ছে, তবে প্রত্যাহারের সঠিক সময়সীমা এবং পরিধি এখনও অস্পষ্ট। মোতায়েনের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জগুলো এখনও চলছে, এবং ভবিষ্যতে এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। মার্কিন শহরগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সম্ভবত অব্যাহত থাকবে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment