রয়টার্সের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভক্ত জনমত সত্ত্বেও বুলগেরিয়া ইউরোজোনের ২১তম সদস্য হয়েছে। পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র এবং হাঙ্গেরির মতো সমৃদ্ধ প্রার্থীদের ছাড়িয়ে বুলগেরিয়ার দীর্ঘ পথ পেরোনোর পর এই পদক্ষেপটি দেশটির ইউরোপীয় মূল স্রোতে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইউরো গ্রহণ বুলগেরিয়ার ন্যাটো, ইইউ এবং শেনজেন জোনে সদস্যপদ অনুসরণ করে। আগস্ট মাস থেকে, বুলগেরিয়ার দোকানগুলোতে লেভ এবং ইউরো উভয় মুদ্রায় দাম দেখানো হয়েছে, যা নাগরিকদের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করছে। বুলগেরিয়ান লেভ, যার অর্থ সিংহ, ১৮৮১ সাল থেকে জাতীয় মুদ্রা, তবে ১৯৯৭ সাল থেকে এটি অন্যান্য ইউরোপীয় মুদ্রার সাথে যুক্ত ছিল, প্রথমে ডয়েচমার্ক এবং পরে ইউরোর সাথে।
এই পরিবর্তনটি চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, জনমত জরিপে দেখা যায় যে বুলগেরিয়ার ৬.৫ মিলিয়ন জনসংখ্যা প্রায় সমানভাবে নতুন মুদ্রা নিয়ে বিভক্ত। এই পরিবর্তনটি শহুরে, তরুণ এবং উদ্যোক্তা বুলগেরিয়ানদের কাছ থেকে আশাবাদ জাগিয়েছে, যারা এটিকে সম্ভাব্য লাভজনক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে, বয়স্ক, গ্রামীণ এবং আরও রক্ষণশীল জনগোষ্ঠীর অংশ লেভের প্রতিস্থাপনের বিষয়ে ভয় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী রোজেন জেলিয়াজকভের জোট সরকার ১১ ডিসেম্বর আস্থা ভোটে হেরে যায়, যা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা যোগ করেছে।
রয়টার্স অনুসারে, বুলগেরিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দরিদ্রতম দেশ। ইউরো গ্রহণ অর্থনৈতিক সুবিধা এবং অসুবিধা উভয়ই নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ দেশটি এই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment