ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চার মাসব্যাপী সামরিক চাপ প্রয়োগের প্রথম স্থল হামলা হিসেবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণার প্রায় এক সপ্তাহ পরেও ঘটনাটি ঘিরে বিস্তারিত তথ্য এখনো অপ্রতুল। সিএনএন এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস সোমবারের শেষের দিকে জানায়, সিআইএ कथितভাবে ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ নামক একটি স্ট্রিট গ্যাং কর্তৃক ব্যবহৃত একটি বন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন ব্যবহার করেছে।
অভিযোগ করা ড্রোন হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে চলমান ছায়া যুদ্ধের একটি নতুন পর্যায় নির্দেশ করে, যেখানে নিকোলাস মাদুরো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাপ বৃদ্ধি সত্ত্বেও ক্ষমতায় আঁকড়ে আছেন। হামলার তারিখ, সময় এবং সঠিক স্থান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাটি ওয়াশিংটন এবং কারাকাসের মধ্যে কয়েক মাস ধরে বেড়ে চলা উত্তেজনার ফল। ট্রাম্প, যিনি জানুয়ারি ২০২৫ সালে অফিস ত্যাগ করেছেন কিন্তু এখনও একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মাদুরোর সরকারকে বারবার দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অপরাধী সংগঠনের সাথে সম্পর্কের জন্য অভিযুক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভেনিজুয়েলার উপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে, যা দেশটির তেল-নির্ভর অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে এবং একটি মানবিক সংকট তৈরি করেছে, যার কারণে লক্ষ লক্ষ ভেনিজুয়েলার নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অভিনেতাদের জড়িত থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাশিয়া ও চীন মাদুরোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করছে। কিছু বিশ্লেষক এই সম্পর্কগুলোকে অঞ্চলে মার্কিন প্রভাবের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
‘ট্রেন দে আরাগুয়া’, যে গ্যাংটিকে ড্রোন হামলায় লক্ষ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ, সেটি একটি আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন, যা ভেনিজুয়েলায় উদ্ভূত হয়েছে এবং সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকায় এর কার্যক্রম প্রসারিত করেছে। এই গ্যাং মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং মানব পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। এর উপস্থিতি এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কারাকাসে একটি সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টার লাগানো মোটরসাইকেলে চড়ে এক প্রতিবাদকারীর ছবি ভেনিজুয়েলার জটিল এবং মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে চিত্রিত করে। কিছু ভেনিজুয়েলার নাগরিক ট্রাম্পকে সম্ভাব্য ত্রাণকর্তা হিসেবে দেখলেও অন্যরা তাকে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপকারী হিসেবে দেখে।
ভেনিজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। দক্ষিণ আমেরিকা সংবাদদাতা টিয়াগো রজেরোর মতে, মার্কিন যুদ্ধ মহড়াগুলোতে মাদুরোর পতনের বিভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু এর কোনোটিই দেশটির জন্য ভালো হয়নি। চলমান ছায়া যুদ্ধ এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে চলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, অনেকে সংকটের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাধানের আশা করছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment