ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশার কারণে ডলার ২০১৭ সালের পর থেকে সবচেয়ে খারাপ বছর পার করার পথে। ব্লুমবার্গ ডলার স্পট ইনডেক্স এই বছর প্রায় ৮% কমেছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যে পরবর্তী ফেডারেল রিজার্ভ প্রধান বর্তমানে অনুমিত হারের চেয়ে বেশি হারে সুদ কমাবেন, সেক্ষেত্রে ডলারের আরও পতন হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এপ্রিল মাসে শুল্ক আরোপ এবং পরবর্তীতে একজন নমনীয় ফেড চেয়ার নিয়োগের জন্য চাপ দেওয়ার পরে ডলারের পতন আরও দ্রুত হয়েছে। নোমুরার বৈদেশিক মুদ্রা কৌশলবিদ ইউসুকে মিয়াইরি বলেছেন যে প্রথম ত্রৈমাসিকে ডলারের জন্য ফেড সবচেয়ে বড় কারণ হবে। তিনি জানুয়ারি এবং মার্চের বৈঠকের পাশাপাশি জেরোম পাওয়েলের উত্তরসূরি নিয়োগের সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য উন্নত দেশগুলির মধ্যে মুদ্রানীতির প্রত্যাশিত ভিন্নতা ডলারের দুর্বলতার কারণ হচ্ছে। বাজার আগামী বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কমপক্ষে দুটি হার কমানোর পূর্বাভাস দিচ্ছে, তাই যে দেশগুলোতে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সেই দেশগুলোর মুদ্রার তুলনায় ডলারের আকর্ষণ কমে গেছে।
ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি কম থাকায় এবং ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রত্যাশার কারণে ইউরোর দাম ডলারের বিপরীতে বেড়েছে, যা ইউরোজোনে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, কানাডা, সুইডেন এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে সুদের হার বাড়ানোর ওপর বাজি ধরছেন ব্যবসায়ীরা, যা ডলারের বিপরীতে তাদের নিজ নিজ মুদ্রাকে আরও শক্তিশালী করছে।
বুধবার শ্রম দপ্তরের ডেটা প্রকাশের পর ডলারের মান সাময়িকভাবে ০.২% বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে সামগ্রিক প্রবণতা নিম্নমুখী। বাজারের মূল মনোযোগ ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ দিক এবং পরবর্তী ফেড চেয়ারের নিয়োগের দিকে রয়েছে, যা আগামী মাসগুলোতে ডলারের কার্যকারিতার প্রধান চালিকাশক্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment