মার্কিন সামরিক বাহিনী বুধবার জানিয়েছে যে তারা গত দুই দিনে মাদক চোরাচালানকারী সন্দেহে পাঁচটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে আটজন নিহত হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকাতে সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের মতে, এই হামলাগুলো মঙ্গলবার ও বুধবার সংঘটিত হয়েছে। যদিও এই অভিযানের সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি, তবে পূর্বে এ ধরনের কার্যক্রম ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সংঘটিত হয়েছে।
সাউদার্ন কমান্ড মঙ্গলবার এর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছে, যেখানে তিনটি নৌকাকে কাছাকাছি অবস্থানে চলতে দেখা যায়। সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে জাহাজগুলো মাদক পাচারের পরিচিত পথ ধরে চলছিল এবং "হামলার আগে তিনটি জাহাজের মধ্যে মাদক দ্রব্য স্থানান্তর করেছিল।" তবে, সামরিক বাহিনী এই দাবির সমর্থনে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করেনি। সামরিক বাহিনীর বিবৃতি অনুসারে, প্রাথমিক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু করা জাহাজগুলো থেকে যারা লাফিয়ে পড়েছিল তাদের পরিণতি এখনও অস্পষ্ট।
এই হামলাগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর মাদক পাচার কার্যক্রমকে ব্যাহত করার চলমান প্রচেষ্টার অংশ। এই নীতি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে, এর লক্ষ্য হলো অবৈধ মাদক দ্রব্যের প্রবাহকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা থেকে রোধ করা। এই কৌশলের সমর্থকরা যুক্তি দেখান যে এটি সংগঠিত অপরাধ দমন এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তবে, সমালোচকরা বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা এবং এই ধরনের অভিযানের আইনি ভিত্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন যে মাদক নির্মূল অভিযানে সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততা সম্পদের সঠিক ব্যবহার কিনা।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড এই অঞ্চলের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে চলেছে এবং প্রয়োজনীয় মনে করলে অভিযান পরিচালনা করছে। হামলার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য, যেমন লক্ষ্যবস্তু করা জাহাজের নির্দিষ্ট ধরন এবং অভিযানের দিকে পরিচালিত গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment