প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে তার প্রশাসন শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং পোর্টল্যান্ড, ওরেগনে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের প্রচেষ্টা স্থগিত করবে, কারণ এই ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহরগুলোতে পূর্বের মোতায়েনগুলোর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ট্রাম্প বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন, মোতায়েনগুলোর প্রশংসা করেন এবং দাবি করেন যে এর ফলে অপরাধের হার কমেছে।
শিকাগো এবং পোর্টল্যান্ডে মোতায়েন আদালতের আইনি বাধার সম্মুখীন হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায়, ডিসেম্বরের শুরুতে একজন মার্কিন জেলা আদালতের বিচারকের সমালোচনার পরে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা প্রত্যাহার করে নেয়। নবম সার্কিট কোর্ট অফ আপিল বুধবার রায় দিয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসনকে অবশ্যই গার্ডের নিয়ন্ত্রণ ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোমের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
মার্কিন শহরগুলোতে ফেডারেল সেনা মোতায়েন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা ফেডারেল সরকার এবং পৃথক রাজ্যগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা জাতির ইতিহাসে একটি পুনরাবৃত্তিমূলক বিষয়। জার্মানি এবং ব্রাজিলের মতো অন্যান্য ফেডারেল প্রজাতন্ত্রেও অনুরূপ বিতর্ক দেখা গেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার এবং আঞ্চলিক রাজ্যগুলোর মধ্যে কর্তৃত্বের বিভাজন একটি চলমান আলোচনার বিষয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে সামরিক বা আধা-সামরিক বাহিনীর যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সরকারের সংগ্রামের একটি বিশ্বব্যাপী প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে। ফ্রান্স এবং ইতালির মতো দেশগুলোতে, সন্ত্রাসী হুমকি এবং সামাজিক অস্থিরতার প্রতিক্রিয়ায় আইন প্রয়োগে সহায়তা করার জন্য সামরিক কর্মীদের মোতায়েন করা আরও সাধারণ হয়ে উঠেছে, যদিও কঠোর আইনি কাঠামোর অধীনে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোতায়েনের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জগুলো নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে এবং নির্বাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার রোধে বিচার বিভাগীয় তদারকির গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। এই নীতিটি ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধানসহ বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে আদালত আইনের শাসন বজায় রাখতে এবং ক্ষমতার সম্ভাব্য অপব্যবহার থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মোতায়েন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসন এবং ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহরগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পারে। তবে, অপরাধ, পুলিশিং এবং ফেডারেল-রাজ্য সম্পর্কের অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং আগামী মাসগুলোতে এ নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment