ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে গত নভেম্বরে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ায় দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে, কারণ ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলো ধীরে ধীরে দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এই দুর্যোগে সেকুমুর-এর মতো গ্রাম এবং আরও উত্তরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা, ভূমিধস এবং ধ্বংসাবশেষের কারণে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে বহু বাসিন্দা বাস্তুহারা হয়ে পড়েছেন এবং পর্যাপ্ত সম্পদের অভাবে দিন কাটাচ্ছেন।
সেকুমুরে, ফাউজি তার বাড়িকে "কাঠের স্তূপের নিচে চাপা পড়া" বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি নদীর জলের তোড়ে ভেসে আসা ১০ ফুট উঁচু কাঠের স্তূপের কথা বলছিলেন। সেকুমুর থেকে ২০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি গ্রামের আরেক বাসিন্দা জুলফিকার এই বন্যাকে "মহাপ্রলয়" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ধ্বংসাবশেষ বহনকারী কালো জলের স্রোতের কথা বর্ণনা করেন, যা ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। উপকূলের বাসিন্দা নূর হায়াতি, যিনি ২০০৪ সালের সুনামির পরে ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন, তিনি বলেন যে সাম্প্রতিক বন্যা "সুনামির চেয়েও বেশি বিধ্বংসী" ছিল, কারণ পরবর্তী বছরগুলোতে নির্মিত বাড়িঘর ভেসে গেছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট এই বন্যা আচেহ প্রদেশের সম্প্রদায়গুলোর চরম আবহাওয়ার প্রতি দুর্বলতাকে তুলে ধরে। সুমাত্রা দ্বীপের উপর প্রদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে বর্ষাকালে। এই দুর্যোগে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মোকাবিলার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। বাসিন্দারা ত্রাণ বিতরণের গতি এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার অভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য, জল ও চিকিৎসা সরবরাহসহ ত্রাণ সরবরাহের জন্য কাজ করছে। ডিসেম্বরে একটি পুলিশ হেলিকপ্টার দুর্গম এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম বাবো গ্রামে ত্রাণ পৌঁছে দেয়। তবে, ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা এবং দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর logistical চ্যালেঞ্জ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে।
পুনরুদ্ধারের ধীর গতি বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, যারা নিজেদের অবহেলিত ও বিস্মৃত মনে করছেন। বন্যার পরে পর্যাপ্ত আবাসন, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কিছু বাসিন্দা ভবিষ্যতে দুর্যোগ প্রতিরোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সরকারের সমালোচনা করেছেন এবং উন্নত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নতির আহ্বান জানিয়েছেন।
সামনে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোকে দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা প্রদান, ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীল জীবিকা তৈরি করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার সরকার আচেহ প্রদেশে পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে, এই প্রচেষ্টার সাফল্য নির্ভর করবে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর। এই দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান দুর্বলতা এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমাতে সক্রিয় পদক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment