চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার বার্ষিক নববর্ষের ভাষণে বলেছেন যে চীন ও তাইওয়ানের একত্রীকরণ অনিবার্য। বেইজিংয়ে দেওয়া এই বিবৃতিটি তাইওয়ানকে ঘিরে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) কর্তৃক পরিচালিত ব্যাপক সামরিক মহড়ার সমাপ্তির পরে এসেছে।
শি জোর দিয়ে বলেন যে "মাতৃভূমির" একত্রীকরণ একটি অপ্রতিরোধ্য প্রবণতা। চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ মনে করে, যা একটি স্ব-শাসিত দ্বীপ, এবং সম্ভাব্য শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এটিকে অধিগ্রহণ করার অভিপ্রায় ধারাবাহিকভাবে ব্যক্ত করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের মধ্যে চীনের সামরিক সক্ষমতা এবং শি জিনপিং প্রয়োজন মনে করলে তাইওয়ানের উপর হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে এই মন্তব্যগুলো এসেছে। পিএলএ সম্প্রতি তাইওয়ানের কাছে লাইভ-ফায়ার সামরিক মহড়া চালিয়েছে, যেখানে মূল বন্দরগুলোর অবরোধের অনুকরণ এবং নৌ ও বিমান বাহিনীর সম্পদ জড়িত ছিল।
এই পরিস্থিতি এই অঞ্চলের জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাকে তুলে ধরে। চীনের অবস্থান তার "এক চীন" নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যা দাবি করে যে চীন নামে শুধুমাত্র একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র রয়েছে এবং তাইওয়ান এর অংশ। তবে তাইওয়ান মনে করে এটি একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম জাতি, যার নিজস্ব গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র "কৌশলগত অস্পষ্টতার" নীতি বজায় রাখে, তাইওয়ানের উপর চীনা আক্রমণের ঘটনা ঘটলে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে কিনা তা নিশ্চিত বা অস্বীকার করে না। এই নীতি চীনকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করা থেকে নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
চলমান উত্তেজনার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। তাইওয়ান প্রণালীতে যেকোনো সামরিক সংঘাতের মারাত্মক পরিণতি হতে পারে, যা বিশ্ব বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে।
তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। চীন তার দাবি বজায় রাখা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো অব্যাহত রাখলেও তাইওয়ান তার প্রতিরক্ষা জোরদার করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ তার মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চাইছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, উভয় পক্ষকে সংযম অনুশীলন এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপ অনুসরণের আহ্বান জানাচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment