সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোয় ইয়েমেনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) হাদরামৌত ও আল-মাহরা প্রদেশ থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেছে। ডিসেম্বরে আক্রমণ চালিয়ে তারা সম্পদ-সমৃদ্ধ এই অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান rashad al-Alimi সতর্ক করে বলেছেন, দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আরও অগ্রসর হলে দেশটির ভঙ্গুর স্থিতিশীলতার জন্য তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।
আল-Alimi-র এই সতর্কবার্তা ইয়েমেনের গভীর বিভেদ এবং বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থনপুষ্ট এসটিসি দক্ষিণ ইয়েমেনের জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার চায়, যা কেন্দ্রীয় সরকারের একটি unified nation বজায় রাখার লক্ষ্যের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। রিয়াদ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এসটিসির কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার অভিযোগ করেছে, যা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইয়েমেনের সংঘাতের মূলে রয়েছে ২০১১ সালের আরব বসন্তের বিদ্রোহ, যার ফলস্বরূপ দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর ফলে একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়, যা হুথি বিদ্রোহীরা কাজে লাগিয়ে ২০১৪ সালে রাজধানী সানার দখল নেয়। এর জেরে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। এর ফলস্বরূপ যে যুদ্ধ হয়, তা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহার ও বাস্তুচ্যুতির শিকার।
হাদরামৌত ও আল-মাহরাতে এসটিসির উপস্থিতি বিশেষভাবে স্পর্শকাতর, কারণ প্রদেশগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে এবং এগুলো সৌদি আরবের খুব কাছে অবস্থিত। এই এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ vital resources এবং বাণিজ্য পথগুলোতে প্রবেশাধিকার দেয়, যা সম্ভাব্যভাবে এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। এই পরিস্থিতি ইয়েমেনের আরও fragment হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার যুদ্ধবিরতি এবং ইয়েমেনের সংঘাতের একটি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার আহ্বান জানিয়েছে। তবে, warring parties-গুলোর মধ্যে গভীর mistrust এবং পরস্পরবিরোধী agendas থাকার কারণে অগ্রগতি ধীর। এসটিসি সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোর সাম্প্রতিক ঘটনা এই প্রচেষ্টাগুলোকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা নতুন করে যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের জনগণের আরও suffering-এর আশঙ্কা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, সংযম এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment