ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফেডারেল ডেটা সংগ্রহের উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে, যা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা এবং জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে প্রভাব ফেলেছে। ClimateInside কর্তৃক ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে পরিলক্ষিত এই প্রবণতার কারণ হল ডেটার প্রতি মতাদর্শগত বিরোধিতা, প্রতিকূল প্রবণতাগুলি অস্পষ্ট করার প্রচেষ্টা এবং সরকারি সংস্থাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাজেট ও কর্মী ছাঁটাই।
ডেটা সংগ্রহের এই হ্রাস পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, জনস্বাস্থ্য ট্র্যাকিং, কর্মসংস্থান পরিসংখ্যান, জনসংখ্যা বিষয়ক সমীক্ষা এবং আবহাওয়া ডেটা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিস্তৃত। ClimateInside রিপোর্টের প্রধান লেখক উমাইর ইরফান বলেছেন, "প্রশাসনের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে 'কোনো ডেটা নয়, শুধু অনুভূতি' হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে, যেখানে অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণের চেয়ে সহজাত অনুভূতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।" এই পদ্ধতি বিজ্ঞানীদের এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তথ্য-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জলবায়ু বিজ্ঞান প্রভাবিত হওয়া মূল ক্ষেত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে যে ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)-এর তহবিল হ্রাস কীভাবে সংস্থাটির জলবায়ু পর্যবেক্ষণ স্টেশনগুলির নেটওয়ার্ক বজায় রাখার ক্ষমতাকে ব্যাহত করেছে। ডেটার এই হ্রাস সরাসরি জলবায়ু মডেলগুলির নির্ভুলতা এবং চরম আবহাওয়া ঘটনাগুলির পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। প্রতিবেদনের একজন সহযোগী লেখক ডিলান স্কট উল্লেখ করেছেন যে "নির্ভরযোগ্য জলবায়ু ডেটার অভাবে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনের লক্ষ্যে নেওয়া নীতিগুলির প্রভাব মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।"
জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) উল্লেখযোগ্য কর্মী হ্রাসের সম্মুখীন হয়েছে, যার ফলে রোগ নজরদারি ডেটা সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণে বিলম্ব হয়েছে। এই ধীরগতি উদীয়মান স্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রতি কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটির ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। প্রতিবেদনের আরেক লেখক শায়না করোলের মতে, "সঠিক এবং সময়োপযোগী ডেটা প্রাদুর্ভাব চিহ্নিতকরণ এবং নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই ছাঁটাই সেই ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।"
বাজেট সংকটের কারণে ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস)-কেও কর্মসংস্থান ডেটার নির্ভুলতা বজায় রাখতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এর ফলে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করা এবং চাকরি সৃষ্টি ও বেকারত্ব সম্পর্কিত নীতি সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন সহযোগী লেখক সারা হার্শান্ডার ব্যাখ্যা করেছেন যে "অর্থনৈতিক প্রবণতা বোঝা এবং তথ্য-ভিত্তিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য কর্মসংস্থান ডেটা অপরিহার্য।"
সমালোচকদের মতে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নীতিনির্ধারণে বিজ্ঞানের ভূমিকাকে দুর্বল করে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি আস্থার অভাব তৈরি করে। তবে সমর্থকরা মনে করেন যে সরকারি কার্যক্রমকে সুবিন্যস্ত করতে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে এই পরিবর্তনগুলি প্রয়োজনীয়। ডেটা সংগ্রহে এই পশ্চাৎপদতার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও দেখার বিষয়, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এর ফলে আগামী বছরগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে জাতির ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment