নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলার সরকার ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে তার বিজয় নিয়ে প্রতিবাদ করার কারণে আটক কমপক্ষে ৮৭ জন বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে থাকা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রমাগত চাপের মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো মুক্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটল।
কিছু পর্যবেক্ষক এই মুক্তিকে মাদুরোর একটি আপোষমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যদিও তিনি অভিযোগ করেছেন যে ট্রাম্প তার সরকারকে উৎখাত এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদ দখল করার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য কমিটি নামক একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগতভাবে ভেনেজুয়েলার উপর নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে, যার লক্ষ্য মাদুরোর সরকারকে বিচ্ছিন্ন করা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য চাপ দেওয়া। ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগ করেছেন।
এই মুক্তি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে। দেশটি চরম মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও ওষুধের অভাব এবং বিপুল সংখ্যক নাগরিকের দেশত্যাগ সমস্যায় জর্জরিত। বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচন রাজনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে বিরোধীরা ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
বন্দীদের মুক্তি মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো স্বাগত জানালেও, অনেকে মাদুরোর উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান। তাদের যুক্তি হলো, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক নীতিগুলোর প্রতি প্রকৃত অঙ্গীকারের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর জন্য এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য কমিটি ভেনেজুয়েলার সকল রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন এখনও পর্যন্ত সর্বশেষ মুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে গণতান্ত্রিক সংস্কারের দিকে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত তাদের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment