উই সুং-ল্যাক শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, বেইজিং শীর্ষ সম্মেলনের পর, প্রেসিডেন্ট লি সাংহাই যাবেন জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার অস্থায়ী সরকারের ঐতিহাসিক স্থানটি পরিদর্শনের জন্য। নেতারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই শীর্ষ সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল। দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা উভয় দিক থেকেই চিহ্নিত, বিশেষ করে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং উত্তর কোরিয়া বিষয়ে। চীন দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার, তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি এবং এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি সম্পর্কিত নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট লি-র এই সফর এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার এবং বর্ধিত সহযোগিতার পথ অনুসন্ধানের একটি সুযোগ করে দেবে। আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য সম্পর্ক, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা এবং কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। দুই নেতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা করতে পারেন।
ব্লু হাউজ ইঙ্গিত দিয়েছে যে প্রেসিডেন্ট লি চীনের সাথে একটি "ভবিষ্যত-মুখী" সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, যেখানে অভিন্ন স্বার্থ এবং গঠনমূলক সংলাপের উপর জোর দেওয়া হবে। তবে, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার তার প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার জোটের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক অভিনেতারা এই সফরের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখবে, কারণ এটি পূর্ব এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বৈঠকের পর শীর্ষ সম্মেলনের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি এবং ফলাফল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment