ভারতের ইন্দোরে ভাগীরথপুরা এলাকায় জল দূষণের সন্দেহে ২০০ জনের বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে এই ঘটনার ফলে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ মাসের একটি শিশুও রয়েছে।
ইন্দোরের বাসিন্দা সুনীল সাহু মনে করেন যে দূষিত কলের জলের কারণে তাঁর ছেলে অভ্যানের মৃত্যু হয়েছে। সাহুর মতে, পরিবার অভ্যানকে গরুর দুধ কলের জলের সাথে মিশিয়ে খাইয়েছিল, যা ভারতে একটি সাধারণ প্রথা, যেখানে গরুর দুধ প্রায়শই শিশুদের জন্য খুব ঘন বলে মনে করা হয়। পরিবার জানিয়েছে যে তারা কলের জলের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং অভ্যানকে খাওয়ানোর আগে দুধ-জলের মিশ্রণটি ফুটিয়ে নিয়েছিল। ২৬শে ডিসেম্বর অভ্যানের ডায়রিয়া শুরু হয় এবং চিকিৎসার পরেও তিন দিনের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।
দূষণের সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে। কর্মকর্তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে একটি পাইপলাইন লিক হওয়ার কারণে পয়ঃনিষ্কাশন পানীয় জলের সরবরাহের সাথে মিশে যায়, যার ফলে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটে। দূষিত জলের কারণে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও তদন্তাধীন।
এই ঘটনা ভারতে সম্প্রদায়গুলোকে নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহের ক্ষেত্রে চলমান চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরে। পানিবাহিত রোগগুলো একটি উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে, যেখানে অবকাঠামো প্রায়শই দুর্বল। বিশুদ্ধ জল এবং স্যানিটেশনের অভাব সংক্রামক রোগের বিস্তারকে বাড়িয়ে তোলে, যা শিশু এবং বয়স্কদের মতো দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পরিষ্কার জল সরবরাহ করার জন্য কাজ করছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য আরও তদন্তের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ঘটনাটি জলীয় পরিকাঠামো বজায় রাখা এবং সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment