লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানে মার্কিন হস্তক্ষেপের একটি দীর্ঘ এবং জটিল ইতিহাস রয়েছে, যার ফলাফলগুলি সবসময় প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়নি। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর উপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপ এই প্রবণতার একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ, যা ১৮২৩ সালের মনরো মতবাদ এবং ২০ শতক জুড়ে জোরদার হওয়া ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ অনুসারে যা দৃশ্যত মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং কমিউনিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য করা হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলার মাদক পরিবহনে জড়িত সন্দেহে থাকা নৌকায় হামলা, ভেনেজুয়েলার তেল ট্যাঙ্কার জব্দ এবং ভেনেজুয়েলার একটি ডকে সিআইএ-র কথিত হামলা সহ সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপগুলি আঞ্চলিক নীতির প্রতি একটি "বিগ স্টিক" পদ্ধতির উদাহরণ। এই পদ্ধতিটি, যা প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের সময়কালের, মনরো মতবাদের উপর ভিত্তি করে প্রসারিত হয়েছিল, যা মূলত ইউরোপীয় শক্তিগুলিকে এই অঞ্চলে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো কর্তৃক প্রণীত মনরো মতবাদ, ইউরোপীয় শক্তিগুলিকে আমেরিকাতে আরও উপনিবেশ স্থাপন বা হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি সতর্কতা হিসাবে কাজ করেছিল। রুজভেল্টের মতবাদের উপসংহারে বলা হয়েছে, যদি ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বা তাদের ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম হয় তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে।
১৯৬১ সালের এপ্রিলে বে অফ পিগস আক্রমণ, সিআইএ-সমর্থিত কিউবান নির্বাসিতদের দ্বারা ফিদেল কাস্ত্রোর সরকারকে উৎখাত করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা, মার্কিন হস্তক্ষেপের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ যা তার উদ্দেশ্য অর্জনে সফল হয়নি। এই অভিযানের ফলে নির্বাসিতরা ধরা পড়ে এবং কাস্ত্রোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার একটি পুনরাবৃত্তিমূলক ধারা প্রকাশ করে, যা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা স্বার্থের সংমিশ্রণ দ্বারা চালিত। কিছু হস্তক্ষেপ গণতন্ত্র বা স্থিতিশীলতা প্রচারের প্রচেষ্টা হিসাবে উপস্থাপন করা হলেও, অন্যদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করা এবং অস্থিতিশীলতায় অবদান রাখার জন্য সমালোচনা করা হয়েছে।
এই হস্তক্ষেপগুলির দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে রূপদান করে চলেছে। এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থ এবং অন্যান্য জাতির সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা চলছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment