যুক্তরাজ্য সরকারের সদ্য প্রকাশিত ফাইলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইরাকি বেসামরিক নাগরিকদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্রিটিশ সৈন্যদের দেওয়ানি আদালতে বিচার হওয়া আটকাতে কর্মকর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। মঙ্গলবার পশ্চিম লন্ডনের কিউ-এর জাতীয় মহাফেজখানায় (National Archives) প্রকাশিত নথিগুলো থেকে জানা যায় যে, ব্লেয়ার ২০০৫ সালে ইরাকে যুক্তরাজ্যের কার্যকলাপের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (International Criminal Court) (আইসিসি)-এর মতো আদালত কর্তৃক সম্ভাব্য তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
ফাইলগুলো থেকে ধারণা করা হয় যে, ব্লেয়ার ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর যুক্তরাজ্যের সামরিক কর্মীদের আন্তর্জাতিক আইনি তদন্ত থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন। নথি অনুযায়ী, ব্লেয়ার যুক্তরাজ্যের সামরিক বিচার ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার প্রতিরোধ করার উপর জোর দিয়েছিলেন। তবে কী ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং এর প্রভাবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কতটা প্রভাবিত হয়েছিল, তা এখনও বিশ্লেষণের বিষয়।
যুক্তরাজ্যের ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ, যা মার্চ ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শুরু হয়েছিল, বহু বছর ধরে তীব্র বিতর্ক ও পর্যালোচনার উৎস। যুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে তদন্ত করা হয়েছিল এবং সংঘাতের বৈধতা ও ব্রিটিশ সৈন্যদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সৈন্যদের দ্বারা ইরাকি বেসামরিক নাগরিকদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ বেশ কয়েকটি তদন্ত ও আইনি চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে।
এই ফাইলগুলোর প্রকাশ ইরাক যুদ্ধের ঐতিহাসিক রেকর্ডে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সামরিক বিচারের উপর রাজনৈতিক প্রভাবের ব্যাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জাতীয় মহাফেজখানা (National Archives) আগামী মাসগুলোতে ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কিত আরও নথি প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা এই বিষয়ে আরও আলোকপাত করতে পারে। এই खुलाসাগুলো ইরাক যুদ্ধের উত্তরাধিকার এবং রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের জবাবদিহিতা নিয়ে আরও বিতর্ক সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment