আল জাজিরার মতে, ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত জোট বাহিনী দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা দেশটির মধ্যে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন করেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি জোটের প্রতিক্রিয়াকে প্ররোচিত করেছে, যা সংঘাতের জটিল এবং অস্থির প্রকৃতিকে তুলে ধরে।
আল জাজিরার হয়ে আকসেল জাইমোভিচ জানিয়েছেন, ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য একাধিক গোষ্ঠী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা একটি খণ্ডিত ভূখণ্ড তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি-সমর্থিত জোট একটি প্রধান খেলোয়াড়। তাদের বিরোধিতা করছে দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা, যারা একটি স্বাধীন দক্ষিণ ইয়েমেন চায়।
ইয়েমেনের সংঘাতের গভীর শিকড় রয়েছে, যা রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে উদ্ভূত। হুথি আন্দোলন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, রাজধানী সানাসহ উত্তর ইয়েমেনের বৃহৎ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০১৫ সালে হুথিদের ক্ষমতা বৃদ্ধি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপকে প্ররোচিত করে, যা সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিভিন্ন দল এবং বহিরাগত অভিনেতাদের সম্পৃক্ততা জোট এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি জটিল জাল তৈরি করেছে। জাতিসংঘ শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করার জন্য সক্রিয়ভাবে জড়িত, তবে অগ্রগতি ধীর। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, ইয়েমেনের মানবিক সংকট এখনও ভয়াবহ, লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহার ও বাস্তুচ্যুতির শিকার।
সর্বশেষ বিমান হামলা এবং আঞ্চলিক পরিবর্তন পরিস্থিতির ভঙ্গুরতাকে তুলে ধরে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংঘাতের অন্তর্নিহিত কারণগুলি মোকাবেলা করতে এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য একটি ব্যাপক রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ এই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ ভিত্তি খুঁজে বের করার এবং একটি ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ জাতি গঠনের দিকে কাজ করার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment