টেকক্রাঞ্চকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ক্ষেত্রটি ক্রমবর্ধমান বৃহৎ ভাষা মডেল তৈরি করার প্রাথমিক লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে বাস্তবভিত্তিক এআই অ্যাপ্লিকেশন বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে ছোট, আরও বিশেষায়িত এআই মডেল স্থাপন, ভৌত ডিভাইসগুলোতে এআইয়ের সংহতকরণ এবং বিদ্যমান মানব কর্মপ্রবাহের সঙ্গে নির্বিঘ্নে সংহত করার জন্য ডিজাইন করা সিস্টেম তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত।
এই পরিবর্তনটি এআই মডেলগুলোর অপরিশোধিত শক্তি দিয়ে স্কেলিং করার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়, যা বিগত বছরগুলোর বৈশিষ্ট্য ছিল। পরিবর্তে, শিল্পটি নতুন এআই আর্কিটেকচার নিয়ে গবেষণা এবং চাকচিক্যপূর্ণ প্রদর্শনী থেকে লক্ষ্যযুক্ত স্থাপনার দিকে মনোনিবেশ করবে। লক্ষ্য হল এমন এআই এজেন্ট তৈরি করা যা সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
এআই-এর দ্রুত বিকাশের পরেই এই দিক পরিবর্তনটি এসেছে, যা ২০১২ সালে অ্যালেক্সনেট (AlexNet) পেপারের মতো সাফল্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এই পেপারে বিশাল ডেটাসেটের মাধ্যমে বস্তু শনাক্তকরণ শিখতে এআই সিস্টেমগুলোর সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছিল। জিপিইউ (GPU) থেকে কম্পিউটেশনাল পাওয়ার দ্বারা চালিত এই গবেষণা, ক্রমবর্ধমান অত্যাধুনিক মডেলগুলোর বিকাশের দিকে পরিচালিত করে, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২০ সালের দিকে ওপেনএআই-এর জিপিটি-3 (GPT-3)।
তবে, বিশেষজ্ঞরা এখন বিশ্বাস করেন যে কেবল মডেল স্কেলিং করাই যথেষ্ট নয়। এখন বাস্তব পরিস্থিতিতে এআইকে আরও ব্যবহারযোগ্য এবং প্রয়োগযোগ্য করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দৈনন্দিন ডিভাইসগুলোতে বুদ্ধিমত্তা এম্বেড করা এবং এআই সিস্টেম তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা বিভিন্ন শিল্পে মানুষের পাশাপাশি কাজ করতে পারে। এই পরিবর্তনটি এআই ক্ষেত্রের পরিপক্কতার ইঙ্গিত দেয়, যা তাত্ত্বিক সম্ভাবনা থেকে বাস্তব প্রয়োগের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment