ইউক্রেনীয়রা রাশিয়ার সাথে চলমান আলোচনায় ১৯৯৪ সালে পাওয়া ভঙ্গুর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে ভাবছেন, যা আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ১৯৯৪ সালে, ইউক্রেন বুদাপেস্ট স্মারকলিপিতে বর্ণিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার ত্যাগ করতে সম্মত হয়, যা সেই সময়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ছিল। রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য কর্তৃক প্রদত্ত এই নিশ্চয়তাগুলোতে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং বিদ্যমান সীমানাগুলোর প্রতি সম্মান জানানোর অঙ্গীকার করা হয়েছিল।
তবে, ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল এবং পূর্ব ইউক্রেনে চলমান সংঘাতকে অনেক ইউক্রেনীয় বুদাপেস্ট স্মারকলিপির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখেন। এনপিআর-এর মর্নিং এডিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়া এক ইউক্রেনীয় নাগরিক বলেন, "আমরা এমন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করেছি যা রাখা হয়নি।" "আমরা এই আলোচনাগুলোতে সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চাই না।"
বুদাপেস্ট স্মারকলিপি আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিলতা এবং নিরাপত্তা চুক্তিগুলো কার্যকর করার চ্যালেঞ্জগুলোর একটি কঠোর অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে। চুক্তিতে কার্যকরের জন্য নির্দিষ্ট কোনও প্রক্রিয়া ছিল না, যার ফলে রাশিয়া শর্ত লঙ্ঘন করলে ইউক্রেন অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রাশিয়ার সাথে বর্তমান আলোচনাগুলোতে ইউক্রেনের দৃষ্টিভঙ্গিকে রূপ দিচ্ছে, কারণ কর্মকর্তারা দৃঢ় এবং যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছেন।
এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র কূটনৈতিক নিশ্চয়তার উপর নির্ভর করার সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরে, বিশেষ করে শক্তিশালী প্রয়োগকারী ব্যবস্থার অভাবে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে বুদাপেস্ট স্মারকলিপির ব্যর্থতা শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য আরও কার্যকর সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। অন্যরা মনে করেন যে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা একটি শক্তিশালী জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার গুরুত্ব প্রদর্শন করে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকার সাথে সাথে বুদাপেস্ট স্মারকলিপির উত্তরাধিকার বড় আকার ধারণ করছে। ইউক্রেন এমন নিশ্চয়তা চাইছে যে যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানো গেলে তা মানা হবে এবং তাদের নিরাপত্তা কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করা হবে। এই আলোচনার ফলাফল ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ এবং ইউরোপের বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment