মালাউইতে প্রায় ৯,৫০০ বছর পুরোনো একটি শবদাহের স্থান আবিষ্কৃত হয়েছে, যা প্রাচীন আফ্রিকান শিকারী-সংগ্রাহক সমাজের রীতিনীতি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। উত্তর মালাউইতে মাউন্ট হোরার পাদদেশে একটি পাথরের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থিত এই শবদাহের স্থানটি সম্ভবত একজন প্রাপ্তবয়স্কের দেহাবশেষ ধারণ করা বিশ্বের প্রাচীনতম স্থান, যা আফ্রিকাতে প্রথম নিশ্চিত ইচ্ছাকৃত শবদাহ এবং আফ্রিকান শিকারী-সংগ্রাহকদের সাথে যুক্ত প্রথম শবদাহের স্থান।
২০১৭ এবং ২০১৮ সালে খননকার্যের ফলে ছাই, কাঠকয়লা এবং পলির স্তরের মধ্যে দুটি স্তূপে প্রাপ্ত প্রায় ১৭০টি মানব হাড়ের টুকরা পাওয়া গেছে, যা দেখে মনে হয় ১.৫ মিটারের (৫ ফুট) কম উচ্চতার একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার। এই আবিষ্কারটি প্রাচীন জনগোষ্ঠীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পর্কে একটি বিরল ঝলক দেয়।
গবেষকরা মনে করেন যে এই শবদাহ ইঙ্গিত দেয় যে এই প্রাথমিক আফ্রিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে জটিল সামাজিক এবং প্রতীকী আচরণ ছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে শবদাহ করার অর্থ হল পরিকল্পনা, সম্পদ বরাদ্দ এবং সাম্প্রদায়িক প্রচেষ্টার একটি স্তর ছিল, যা শিকারী-সংগ্রাহক জীবনের সরলতা সম্পর্কে পূর্বের অনুমানকে চ্যালেঞ্জ করে। এই আবিষ্কার থেকে বোঝা যায় যে এই সমাজের মৃত্যু এবং পরকাল সম্পর্কে অত্যাধুনিক বিশ্বাস ছিল।
সাইটে কর্মরত গবেষণা দল প্রাথমিক মানুষের সাংস্কৃতিক রীতিনীতি বোঝার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কারের তাৎপর্য উল্লেখ করেছে। হাড়ের টুকরা এবং আশেপাশের উপকরণগুলির বিশ্লেষণ চলছে, যার লক্ষ্য ব্যক্তি, শবদাহের প্রক্রিয়া এবং বৃহত্তর সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা।
এই আবিষ্কারটি আফ্রিকাতে জটিল সামাজিক আচরণ এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বিকাশের বিষয়ে পূর্বের অনুমানকে চ্যালেঞ্জ করে। সাইটে আরও গবেষণা এবং অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আফ্রিকার প্রাথমিক মানব সমাজ এবং মানব সংস্কৃতির বিকাশে তাদের অবদান সম্পর্কে আরও ব্যাপক ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment