লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ানে মার্কিন হস্তক্ষেপের একটি দীর্ঘ এবং জটিল ইতিহাস রয়েছে, যার ফলাফলগুলি সর্বদা প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়নি। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর উপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপ এই ধরনের একটি দৃষ্টান্ত, যা ক্যারিবিয়ান অববাহিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদাহরণ।
ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুসারে, ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিন থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীতে আরও তীব্র হওয়া এই হস্তক্ষেপগুলি প্রায়শই মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং কমিউনিজম মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় হিসাবে ন্যায়সঙ্গত ছিল। ভেনেজুয়েলার মাদক পরিবহনে জড়িত সন্দেহে নৌকায় হামলা, ভেনেজুয়েলার তেল ট্যাঙ্কার জব্দ এবং ভেনেজুয়েলার একটি ডকে সিআইএ-র কথিত হামলা সহ সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপগুলি আঞ্চলিক নীতির প্রতি "বিগ স্টিক" দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়, যা কিছু পর্যবেক্ষক বর্ণনা করেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গিটি প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের নীতিগুলির কথা মনে করিয়ে দেয়, যা মূলত ইউরোপীয় শক্তিগুলিকে এই অঞ্চলে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি মনরো ডকট্রিনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো কর্তৃক প্রণীত মনরো ডকট্রিনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল আমেরিকাতে ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপন প্রতিরোধ করা। তবে, সময়ের সাথে সাথে, এটি লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের একটি যুক্তিতে পরিণত হয়। মনরো ডকট্রিনের রুজভেল্টের উপসংহার এই হস্তক্ষেপবাদী অবস্থানকে আরও সুসংহত করে, যা আঞ্চলিক পুলিশ শক্তি হিসাবে কাজ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপবাদী নীতির সমালোচকরা যুক্তি দেখান যে এটি প্রায়শই এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করেছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করেছে এবং মার্কিন-বিরোধী মনোভাবকে উস্কে দিয়েছে। অন্যদিকে, সমর্থকরা মনে করেন যে কমিউনিজমের বিস্তার রোধ এবং মার্কিন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল। লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ানে মার্কিন হস্তক্ষেপের কার্যকারিতা এবং নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক আজও অব্যাহত রয়েছে। এই হস্তক্ষেপগুলির দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি এখনও পুরো অঞ্চলে অনুভূত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভূদৃশ্যকে রূপ দিচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment