ইউক্রেনীয়রা ১৯৯৪ সালে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার সময় যে ভঙ্গুর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেয়েছিল, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবছে, কারণ তারা চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য রাশিয়ার সাথে বর্তমান আলোচনায় জড়িত। ভবিষ্যতে আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য অনমনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি, রাশিয়া সাথে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইউক্রেনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
১৯৯৪ সালের বুদাপেস্ট মেমোরেন্ডামে ইউক্রেন রাশিয়ার কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করে। এই নিশ্চয়তাগুলোর উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা। তবে, ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল এবং ২০২২ সালে পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন এই নিশ্চয়তাগুলোর ব্যর্থতা প্রমাণ করে।
এনপিআর-এর এলিনর বিয়ার্ডসলির মতে, ইউক্রেনীয়রা অতীতের ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি করতে নারাজ। বিয়ার্ডসলি জানান, "ইউক্রেনীয়রা মনে রেখেছে যে তাদের দেশ ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করেছিল, যা রক্ষা করা হয়নি।" "তারা রাশিয়া সাথে তাদের বর্তমান আলোচনায় এর পুনরাবৃত্তি চায় না।"
দক্ষিণ ইউক্রেনের একটি প্রাক্তন সোভিয়েত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে অবস্থিত স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সেস জাদুঘর, দেশটির পারমাণবিক অতীত এবং ভঙ্গুর নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির একটি কঠোর অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে। জাদুঘরটি জটিল ইতিহাস এবং পোস্ট-সোভিয়েত যুগে ইউক্রেনের মুখোমুখি হওয়া কঠিন পছন্দগুলোকে তুলে ধরে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে বর্তমান আলোচনা সংঘাতের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে, বুদাপেস্ট মেমোরেন্ডামের উত্তরাধিকার এই আলোচনার উপর দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে, যা ইউক্রেনকে যেকোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা গ্রহণে বিশেষভাবে সতর্ক করে তুলেছে, যদি না তা বাস্তব পদক্ষেপ এবং নিশ্চয়তা দ্বারা সমর্থিত হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিবিড়ভাবে আলোচনা পর্যবেক্ষণ করছে, অনেকে এমন একটি সমাধানের আশা করছেন যা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment