নেচার পডকাস্ট ১ জানুয়ারি, ২০২৬-এ প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, গবেষকরা ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিন সম্পাদনা এবং মহাকাশ অনুসন্ধানসহ বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রত্যাশা করছেন। পডকাস্টটিতে ছোট আকারের এআই মডেলগুলোর বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) থেকে যুক্তি சார்ந்த কাজে আরও ভালো পারফর্ম করার সম্ভাবনা, বিরল রোগের জন্য জিন সম্পাদনা ব্যবহার করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অগ্রগতি, ফোবোস থেকে নমুনা সংগ্রহের অভিযান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা মার্কিন নীতি পরিবর্তনের ফলে বিজ্ঞানীদের উপর প্রত্যাশিত প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ছোট, আরও বেশি কার্যকরী এআই মডেলের বিকাশ। নেচার পডকাস্টের হয়ে মিরিয়াম নাদাফ জানান, এই মডেলগুলো এলএলএম-এর মতো বিশাল ডেটা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা না রাখলেও, নির্দিষ্ট যুক্তি சார்ந்த কাজে ভালো ফল দেখাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে এআইয়ের উন্নয়ন আরও সহজলভ্য হতে পারে, যা ছোট গবেষণা দল এবং সংস্থাগুলোকে বিশাল কম্পিউটিং রিসোর্স ছাড়াই এই ক্ষেত্রে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে সুযোগ করে দেবে। সমাজের জন্য এর প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, যা সম্ভবত চিকিৎসা নির্ণয় থেকে শুরু করে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রয়োজনের জন্য তৈরি বিশেষ এআই অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে, জিন সম্পাদনা বিরল জেনেটিক রোগের চিকিৎসায় এর সম্ভাবনা অনুসন্ধানের জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর সাথে ক্রমাগত উন্নতি লাভ করছে। পডকাস্টে একটি শিশুকে ব্যক্তিগতকৃত জিন সম্পাদনার মাধ্যমে চিকিৎসার সাফল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা আরও বৃহত্তর পরিসরে প্রয়োগের আশা জাগিয়েছে। তবে, নৈতিক বিবেচনা এবং ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসার পরিধি বাড়ানোর চ্যালেঞ্জগুলো এখনও রয়ে গেছে। জিন সম্পাদনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও অধ্যয়ন করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য জীবন রক্ষাকারী এই থেরাপিগুলোর ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মহাকাশ অনুসন্ধানও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, যেখানে মঙ্গলের একটি চাঁদ ফোবোস থেকে নমুনা সংগ্রহের অভিযান চালানো হবে। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ফোবোসের পৃষ্ঠের উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের জন্য পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে এই নমুনাগুলো মঙ্গল এবং এর চাঁদগুলোর উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দেবে, যা সম্ভবত সৌরজগতের প্রথম দিককার অবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করতে পারে।
পডকাস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মার্কিন নীতি পরিবর্তনের ফলে বিজ্ঞানী মহলের উপর যে প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প টিমের ২০২৫ সালের নীতিগুলোর কারণে অনুদান হ্রাস, গ্রেপ্তার এবং ছাঁটাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে, যা গবেষকদের জন্য একটি উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিজ্ঞানী মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং গবেষণা ও উন্নয়নকে সমর্থন করে এমন নীতির পক্ষে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment