মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষতি না করার জন্য ইরানের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। শুক্রবার একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, "ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে অসুস্থ করে তোলে এবং সহিংসভাবে হত্যা করে, যা তাদের অভ্যাস, তাহলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করতে আসবে।"
ট্রাম্পের এই বিবৃতি, যা তিনি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন, সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ধরণ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এই সতর্কতা এমন সময়ে এসেছে যখন ইরান প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির কারণে ব্যাপক বিক্ষোভের সম্মুখীন হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্থিরতার মধ্যে কমপক্ষে আট জন মারা গেছেন।
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একজন সিনিয়র উপদেষ্টা ট্রাম্পের সতর্কবার্তার প্রতিক্রিয়ায় সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে "সাবধান" থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন যে, হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের বিক্ষোভ অর্থনৈতিক কষ্ট, মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের মতো দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রতিফলন, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতির কারণে আরও বেড়েছে। ইরান ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (JCPOA) থেকে প্রত্যাহারের পর এবং নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার পর থেকে দেশটির অর্থনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই চুক্তিটি ইরান পরমাণু চুক্তি নামেও পরিচিত।
জুন মাসে, ট্রাম্পের নির্দেশে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সাইটগুলোতে হামলা চালায়। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, এই হামলাগুলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি কার্যক্রমকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাধা দিয়েছে, যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এই দাবি অস্বীকার করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা ইতিমধ্যে অসংখ্য সংঘাতের সাথে লড়াই করা একটি অঞ্চলে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক কয়েক দশক ধরে উত্তেজনাপূর্ণ, যা পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং পরস্পরবিরোধী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা চিহ্নিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, অনেক দেশ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং বিক্ষোভের কারণ হওয়া অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতের ঘটনাপ্রবাহ সম্ভবত বিক্ষোভের প্রতি ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া আরও পদক্ষেপের উপর নির্ভর করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment