কিম জং-উনের কন্যা কিম জু-এ ১ জানুয়ারি কুমসুসান প্যালেস অফ দ্য সান-এ তার বাবা-মায়ের সাথে একটি জনসমক্ষে পরিদর্শনে যান, যা তাকে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী শাসক হিসাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে এমন জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ কর্তৃক প্রকাশিত আলোকচিত্রে নথিভুক্ত এই পরিদর্শন ছিল জু-এ-এর প্রথম মাজার পরিদর্শন, যেখানে উত্তর কোরিয়ার নেতা তার পিতামহ, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল-সাং এবং তার পিতা কিম জং-ইলের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
কুমসুসান প্যালেস অফ দ্য সান-এর প্রধান হলে কিম জু-এ-কে তার বাবা-মা কিম জং-উন এবং রি সোল-জুর মাঝে দেখা যায়, পাশাপাশি ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই পরিদর্শন এমন একটি ঘটনার আগে হল যা কিছু বিশ্লেষক মনে করেন তার উত্তরাধিকারকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।
জু-এ গত তিন বছরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ক্রমবর্ধমানভাবে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখিয়েছেন, যা দেশের নেতৃত্বে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কে জল্পনা বাড়িয়েছে। যদিও উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কিম জং-উনের উত্তরসূরির ঘোষণা দেয়নি, তবে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার বাবার সাথে জু-এ-এর বারংবার উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে তাকে নেতৃত্বের ভূমিকার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কুমসুসান প্যালেস অফ দ্য সান উত্তর কোরিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। এটি কিম ইল-সাং এবং কিম জং-ইলের মাজার হিসাবে কাজ করে এবং প্রাসাদ পরিদর্শন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং স্মরণানুষ্ঠানের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য।
কিম জু-এ-এর ক্রমবর্ধমান দৃশ্যমানতা উত্তর কোরিয়ায় একজন নারী নেতার সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে একটি পিতৃতান্ত্রিক সমাজ। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে কিম জং-উন তার কন্যাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া দেশটির বংশগত উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন সংকেত দিচ্ছে। অন্যরা এখনও সন্দিহান, উত্তর কোরিয়ার সমাজ এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত পিতৃতান্ত্রিক রীতিনীতির দিকে ইঙ্গিত করে।
উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব উত্তরাধিকার ইস্যু নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কিম জু-এ-এর ক্রমাগত প্রচার ইঙ্গিত দেয় যে তাকে দেশের ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং যেকোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময় এখনও অনিশ্চিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment