বৃহস্পতিবার বুলগেরিয়ার এটিএমগুলো ইউরো বিতরণ শুরু করেছে, যা দেশটির ইউরোজোনে ২১তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সূচনা করেছে। এই পদক্ষেপটি প্রাক্তন কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আরও গভীর সংহতকরণের ইঙ্গিত, যা ১৯৮৯ সালের পরে গণতন্ত্র এবং মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছিল।
ইউরোর প্রবর্তন লেভের প্রতিস্থাপন করবে, যদিও স্থানীয় মুদ্রাটি জানুয়ারি মাস জুড়ে নগদ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হতে থাকবে। তবে, খুচরা শুধুমাত্র ইউরোতে দেওয়া হবে। প্রায় ৬.৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার বুলগেরিয়া ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তার দরিদ্রতম সদস্য হিসাবে যোগদান করে।
ঐতিহাসিক এই পরিবর্তনটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এসেছে। দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের পরে রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকার চলতি মাসের গোড়ার দিকে পদত্যাগ করেছে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা জনগণের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করেছে, মুদ্রার পরিবর্তনের সাথে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইউরোজোনে প্রবেশের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য, বুলগেরীয় সরকার সফলভাবে এই বছরের শুরুতে মুদ্রাস্ফীতি ২.৭%-এ নামিয়ে এনেছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিশ্চিত করেছে। তবে, সরকারের পদত্যাগের কারণে দেশটি আসন্ন বছরের জন্য নিয়মিত বাজেটবিহীন অবস্থায় রয়েছে, যা সম্ভবত সংস্কার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা তহবিলে প্রবেশে বাধা দিতে পারে, যা জনগণের অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
বুলগেরিয়ার ইউরো গ্রহণ তার কমিউনিস্ট-পরবর্তী যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা তার অর্থনীতিকে ইউরোপের বাকি অংশের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করবে। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউরোজোন, এর সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। তবে, বুলগেরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি মসৃণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং ইউরোজোন সদস্যতার দীর্ঘমেয়াদী সুবিধাগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment