সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত এসটিসি এই ঘোষণাকে দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে, এই পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে কিনা অথবা এটি মূলত প্রতীকী কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত মাসে, এসটিসি-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধারা সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর কাছ থেকে দুটি দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং দক্ষিণের প্রধান শহর এডেনে প্রেসিডেন্ট প্যালেস দখল করে।
এসটিসি দক্ষিণ ইয়েমেনের রাষ্ট্র পুনরুদ্ধার করতে চায়, যা ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত উত্তর ইয়েমেনের সাথে একীভূত হওয়ার আগে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিদ্যমান ছিল। ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাত ২০১৪ সালে শুরু হয়, যখন হুথি বিদ্রোহীরা, একটি জায়েদি শিয়া মুসলিম গোষ্ঠী, রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং উত্তর ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশ দখল করে নেয়, যার ফলে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
এই সংঘাত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব সহ একটি জটিল ছায়া যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত দক্ষিণে এসটিসিকে সমর্থন করেছে, অন্যদিকে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করেছে। এই সমর্থন ভিন্ন হওয়ার কারণে দুটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়েছে।
একটি স্বাধীন দক্ষিণের জন্য সংবিধান ঘোষণার ফলে গৃহযুদ্ধের পুনরুত্থান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই পদক্ষেপ ইয়েমেনকে আরও খণ্ডিত করতে পারে এবং একটি ব্যাপক রাজনৈতিক মীমাংসায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার, যা বর্তমানে এডেনে অবস্থিত, এসটিসির ঘোষণার বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্ভবত এই উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করবে এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য নতুন করে প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানাবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment