জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার ইসরায়েলের প্রতি গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে কর্মরত ৩৭টি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) উপর আসন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক-এর মতে, গুতেরেস বলেছেন যে এই সংস্থাগুলির কাজ জীবন রক্ষাকারী মানবিক প্রচেষ্টার জন্য অপরিহার্য এবং এই নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধবিরতির সময় অর্জিত অগ্রগতিকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ইসরায়েলের এই নিষেধাজ্ঞা এনজিওগুলির নতুন নিবন্ধন বিধি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে হয়েছে। এই বিধি অনুযায়ী, অধিকৃত অঞ্চলে কর্মরত সাহায্য সংস্থাগুলোকে তাদের কর্মী, তহবিলের উৎস এবং operational কাজকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করতে হবে। প্রতিটি এনজিওর নিয়ম না মানার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
গাজা ও পশ্চিম তীরে স্বাস্থ্যসেবার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এনজিও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের বিশেষ চিকিৎসা সহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করে। গাজায় কর্মরত ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (MSF)-এর একজন চিকিৎসক ডাঃ ওমর সালেম বলেছেন যে এনজিও কার্যক্রম হ্রাস পেলে "অবশ্যই ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি ঘটবে, যা দুর্বল জনগোষ্ঠীর উপর প্রভাব ফেলবে যারা এই পরিষেবাগুলোর উপর নির্ভরশীল।" তিনি সংঘাত এবং সীমিত সম্পদের কারণে বেড়ে যাওয়া স্বাস্থ্য বিষয়ক চাহিদাগুলো মোকাবেলায় এনজিওগুলোর গুরুত্বের উপর জোর দেন।
জাতিসংঘের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হলো জরুরি ত্রাণ সরবরাহে সম্ভাব্য ব্যাঘাত এবং বিদ্যমান মানবিক চ্যালেঞ্জগুলোর আরও অবনতি। অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ, সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার সীমিত সুযোগ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে গাজায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে চলাচলের উপর বিধিনিষেধ, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং বারবার সংঘাতের প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সরকার এখনো পর্যন্ত গুতেরেসের আহ্বানের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি। তারা জানিয়েছে যে ত্রাণ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন যে এই নিয়মগুলো অতিরিক্ত বোঝা এবং বৈধ মানবিক কাজকে ব্যাহত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, জাতিসংঘ এই সমস্যা সমাধানের জন্য এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়া থেকে আটকাতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে সম্ভবত জাতিসংঘ ও ইসরায়েলি সরকারের মধ্যে আরও আলোচনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এনজিওগুলোর কাছ থেকে আপিল অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment