নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা একটি পূর্বে অজানা ধরণের এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করেছেন যা গ্রহ গঠনের বিদ্যমান তত্ত্বগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ জানুয়ারি, ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। PSR J2322-2650b নামক এক্সোপ্ল্যানেটটি একটি শহর-আকারের নিউট্রন নক্ষত্রের চারপাশে ঘোরে এবং এতে কার্বন সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল রয়েছে যা সাট (soot) মেঘে পরিপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রহটি, যার ভর বৃহস্পতির সমান বলে অনুমান করা হয়, তার নিউট্রন নক্ষত্রের চরম মহাকর্ষীয় শক্তির শিকার, যা এটিকে একটি লেবুর আকারে প্রসারিত করে। এর কক্ষপথের সময়কাল আট ঘণ্টারও কম। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের ধাঁধাঁয় ফেলে দিয়েছে, কারণ কোনো বর্তমান তাত্ত্বিক মডেল এর অস্তিত্ব সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করতে পারে না।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রকল্পের প্রধান গবেষক ডঃ Anya Sharma বলেন, "এই গ্রহটি সত্যিই অদ্ভুত।" "এর গঠন, এর আকার, নিউট্রন নক্ষত্রের সাথে এর সান্নিধ্য - এটি এমন কিছু যা আমরা আগে কখনও দেখিনি। গ্রহ সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে এটি নতুন করে লিখছে।"
গ্রহটির কার্বন সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল আগ্রহের একটি মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে গ্রহের অভ্যন্তরের তীব্র চাপ এর কেন্দ্রে হীরা গঠনে সহায়তা করতে পারে। সাট মেঘের উপস্থিতি বায়ুমণ্ডলীয় গঠনকে আরও জটিল করে তোলে, যা জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলির ইঙ্গিত দেয়।
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের উন্নত স্পেকট্রোস্কোপিক ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের এক্সোপ্ল্যানেটের বায়ুমণ্ডলীয় গঠন বিশদভাবে বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করেছে। গ্রহ দ্বারা শোষিত এবং নির্গত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অধ্যয়ন করে, গবেষকরা কার্বন এবং অন্যান্য উপাদানের উপস্থিতি সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।
নিউট্রন নক্ষত্র হলো বিশাল নক্ষত্রের ধসে যাওয়া কোর যা সুপারনোভা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে গেছে। এগুলি অবিশ্বাস্যভাবে ঘন, সূর্যের চেয়েও বেশি ভর একটি শহরের আকারের জায়গায় আবদ্ধ। নিউট্রন নক্ষত্রের চরম মাধ্যাকর্ষণ এবং বিকিরণ তাদের চারপাশের পরিবেশকে গ্রহ গঠনের জন্য প্রতিকূল করে তোলে।
PSR J2322-2650b এর আবিষ্কার চরম পরিবেশে গ্রহ গঠনের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। এটি ইঙ্গিত করে যে গ্রহ গঠন সম্পর্কে আমাদের বর্তমান ধারণা অসম্পূর্ণ হতে পারে এবং ছায়াপথে এক্সোপ্ল্যানেটের বৈচিত্র্যের জন্য নতুন তাত্ত্বিক মডেলের প্রয়োজন।
ওয়েব টেলিস্কোপের জন্য নাসার প্রোগ্রাম বিজ্ঞানী ডঃ David Chen বলেন, "এই আবিষ্কারটি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের আমাদের জ্ঞানের সীমানা প্রসারিত করার ক্ষমতাকে তুলে ধরে।" "এটি গবেষণার নতুন পথ খুলে দিচ্ছে এবং মহাবিশ্বকে এমনভাবে বুঝতে সাহায্য করছে যা আমরা কখনও ভাবিনি।"
গবেষকরা ওয়েব টেলিস্কোপ এবং অন্যান্য মানমন্দির ব্যবহার করে PSR J2322-2650b অধ্যয়ন চালিয়ে যেতে চান। তারা এর বায়ুমণ্ডলীয় গঠন, এর অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং এর গঠনের ইতিহাস সম্পর্কে আরও ভাল ধারণা পেতে চান। এই আবিষ্কারের ফলস্বরূপ অন্যান্য চরম পরিবেশে, যেমন ব্ল্যাক হোল বা ঘন নক্ষত্রপুঞ্জের চারপাশে গ্রহ গঠনের বিষয়ে আমাদের ধারণার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment