জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের ২ বিলিয়ন ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি স্বাগত জানানো হলেও, এর সঙ্গে জুড়ে থাকা শর্তগুলো নিয়ে সাহায্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপানো "অ্যাডাপ্ট, শ্রিঙ্ক অর ডাই" (খাপ খাও, সংকুচিত হও অথবা মরে যাও) নামক দৃষ্টিভঙ্গি জাতিসংঘকে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম মেলাতে বাধ্য করতে পারে, যা সম্ভবত বিশ্বব্যাপী সাহায্য বিতরণের পদ্ধতিকে নতুন রূপ দেবে।
এই সপ্তাহে ঘোষিত ২ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতিটি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সাহায্য বাজেট কাটার এক বছর পর এলো। তহবিলের এই যোগান কিছুটা স্বস্তি দিলেও, এর সঙ্গে জুড়ে থাকা শর্তগুলো অস্বস্তি সৃষ্টি করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং বরাদ্দের বিষয়ে দাবিগুলো সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে সাহায্য বিতরণের পদ্ধতি কম নমনীয় হয়ে যেতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আফগানিস্তান ও ইয়েমেনকে এই সাহায্য পাওয়ার জন্য নির্বাচিত ১৭টি অগ্রাধিকারভুক্ত দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বিশ্বব্যাপী সাহায্য বাজারে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ঐতিহ্যবাহী সাহায্য বিতরণের মডেলগুলো নিয়ে ক্রমবর্ধমান প্রশ্ন উঠছে, এবং দাতাদেশগুলোর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিনিয়োগ-চালিত পদ্ধতির উপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য কার্যক্রমের তত্ত্বাবধায়ক জেরেমি লেউইন সরাসরি অনুদানের চেয়ে বিনিয়োগকে বেশি পছন্দ করেন, যা এই পরিবর্তনশীল দর্শনকে প্রতিফলিত করে। মার্কিন সরকারের এই অবস্থান জাতিসংঘকে অনুরূপ কৌশল গ্রহণে চাপ দিতে পারে, যা সম্ভবত কোন ধরনের প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে এবং কোন অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তার উপর প্রভাব ফেলবে।
জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রম ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে আসা তহবিলের উপর নির্ভরশীল, যা তাদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে এবং চাহিদার ভিত্তিতে সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম করে। যুক্তরাষ্ট্রের তহবিলের উপর বেশি নির্ভরতা, বিশেষ করে নির্দিষ্ট শর্তের সঙ্গে, এই স্বাধীনতাকে আপস করতে পারে এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের দিকে পরিচালিত করতে পারে। এই পরিবর্তনের কারণে সাহায্য বিতরণের কার্যকারিতাও প্রভাবিত হতে পারে, কারণ জাতিসংঘকে হয়তো সেই প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করা হতে পারে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, সবচেয়ে জরুরি মানবিক প্রয়োজনগুলোর সঙ্গে নয়।
সামনে তাকিয়ে দেখলে, এই শর্তযুক্ত সাহায্য প্যাকেজের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। যদি জাতিসংঘ মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে, তাহলে অন্যান্য দাতা দেশও এটি অনুসরণ করতে পারে, যার ফলে একটি বিভক্ত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাহায্য ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হিসেবে, একটি নিরপেক্ষ মানবিক সংস্থা হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী সংকট মোকাবিলায় এর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কার্যকারিতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। মার্কিন প্রভাব জাতিসংঘের মানবিক এজেন্ডাকে কতটা নতুন রূপ দেয় এবং বিশ্বব্যাপী দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য এর পরিণতি কী হয়, তা মূল্যায়ন করার জন্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment