ফেডারেল কর্তৃপক্ষ কিশোর হ্যাকিং গ্রুপগুলোর তদন্ত করছে, যার মধ্যে "স্ক্যাটার্ড স্পাইডার" নামে পরিচিত একটি গ্রুপও রয়েছে। এই গ্রুপগুলো ২০২২ সাল থেকে Fortune 500 কোম্পানিগুলোকে র্যানসমওয়্যার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে, যার ফলে আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গ্রুপগুলো প্রায়শই টেলিগ্রামের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মধ্য ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে আকৃষ্ট করে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রায়শই আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ চাকরির বিজ্ঞাপন থাকে, যেখানে প্রশিক্ষণ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। টেলিগ্রামে আবিষ্কৃত এমনই একটি বিজ্ঞাপনে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য প্রতি সফল কলের জন্য ৩০০ ডলার ক্রিপ্টোতে উপার্জনের সুযোগের কথা বলা হয়েছে, যেখানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে উপলব্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে মহিলা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এমনকি যাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেই বা যাদের স্বতন্ত্র উচ্চারণ নেই তারাও আবেদন করতে পারবে।
এই বিজ্ঞাপনগুলো "দ্য কম" (The Com)-এর মতো অপরাধী সংগঠনের হয়ে লোক নিয়োগের একটি কৌশল, যা "দ্য কমিউনিটি"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি প্রায় ১,০০০ জন সদস্যের সমন্বিত একটি ছাতা সংগঠন, যারা বিভিন্ন সাইবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এই কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ কর্পোরেশনগুলোর বিরুদ্ধে র্যানসমওয়্যার হামলা, যা প্রায়শই স্ক্যাটার্ড স্পাইডার, শাইনিহান্টার্স, ল্যাপসাস এবং এসএলএসএইচ-এর মতো গ্রুপগুলো দ্বারা পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞ গবেষক অ্যালিসন নিক্সনের মতে, এই সংস্থাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক পরিবর্তনশীল, যা ক্রমাগত পরিবর্তিত এবং পুনর্গঠিত হচ্ছে।
এই কিশোর হ্যাকিং গ্রুপগুলোর উত্থান অত্যাধুনিক হ্যাকিং সরঞ্জাম এবং কৌশলগুলোর ক্রমবর্ধমান সহজলভ্যতাকেই তুলে ধরে। এই প্রেক্ষাপটে এআই (AI) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা সাইবার অপরাধীদের দ্বারা ব্যবহৃত একটি হাতিয়ার এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কর্তৃক ব্যবহৃত একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উভয়ই। আক্রমণাত্মক দিকে, এআই ফিশিং এবং দুর্বলতা স্ক্যান করার মতো কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করতে পারে, যা এমনকি অনভিজ্ঞ হ্যাকারদের জন্যও আক্রমণ শুরু করা সহজ করে তোলে। প্রতিরক্ষামূলক দিকে, এআই-চালিত সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো রিয়েল-টাইমে হুমকি সনাক্ত করতে এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিক এবং ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করতে পারে।
সমাজের জন্য এর প্রভাবগুলো তাৎপর্যপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ব্যাঘাত এবং সংবেদনশীল ডেটা চুরির সম্ভাবনা ব্যবসা এবং ব্যক্তি উভয়ের জন্যই একটি গুরুতর হুমকি। এই কর্মকাণ্ডে কিশোরদের জড়িত থাকার বিষয়টি দায়বদ্ধতা এবং পুনর্বাসন সম্পর্কে নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করে।
তদন্ত চলছে, এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই সাইবার অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে। শুধুমাত্র এই গ্রুপগুলোর মূল সদস্যদের দিকেই নয়, যারা তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেয় তাদের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। এই ঘটনাটি সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা এবং শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, যাতে তারা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রলুব্ধ না হয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment