প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলার উপর বৃহৎ আকারের হামলার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বন্দী করেছে, আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শনিবার বলেছেন যে সরকার মাদুরো এবং ফ্লোরেসের অবস্থান সম্পর্কে জানে না।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি অডিও বার্তায় রদ্রিগেজ বলেছেন, সরকার প্রমাণ চাইছে যে মাদুরো এবং ফ্লোরেস এখনও জীবিত আছেন। এই ঘটনাগুলো ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর হামলার প্রতিবেদনের পরে ঘটেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করছে, মানবাধিকার, দুর্নীতি এবং ২০১৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপগুলো বৃহত্তর মার্কিন নীতির অংশ, যার লক্ষ্য এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা।
এই পরিস্থিতি বিদেশি নেতাদের সাথে জড়িত পূর্ববর্তী মার্কিন হস্তক্ষেপের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেমন ইরাকের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এবং পানামার নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগার বন্দী হওয়া। ইরাক আক্রমণের পর ২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনী হোসেনকে বন্দী করে, অন্যদিকে ১৯৮৯ সালে পানামায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর নোরিয়েগাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগের সাথে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, কিছু দেশ ভেনেজুয়েলার সংকট নিরসনের জন্য সংযম ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং প্রকৃত তথ্য জানার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
মাদুরো এবং ফ্লোরেসের বর্তমান অবস্থা এখনও নিশ্চিত নয়, এবং ভেনেজুয়েলার সরকার আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে। মার্কিন সরকার এখনও কথিত গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি বা তাদের পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment