গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে মস্তিষ্কের নিষ্কাশন পথে বাধা, যা সাধারণ এমআরআই স্ক্যানে দৃশ্যমান, আলঝেইমার রোগের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হিসাবে কাজ করতে পারে, যা উল্লেখযোগ্য স্মৃতিশক্তি হ্রাসের আগে দেখা যেতে পারে। নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, সিঙ্গাপুর (এনটিইউ সিঙ্গাপুর) এর বিজ্ঞানীদের দ্বারা ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারী প্রকাশিত ফলাফলগুলো নির্দেশ করে যে মস্তিষ্কের বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থায় এই বাধাগুলি জ্ঞানীয় পতনের সাথে সম্পর্কিত বিষাক্ত প্রোটিনের বিল্ডআপের সাথে যুক্ত।
গবেষণা অনুসারে, "বর্ধিত পেরিবাস্কুলার স্পেস" হিসাবে চিহ্নিত এই আটকে যাওয়া পথগুলি, ক্ষতিকারক পদার্থ অপসারণের জন্য মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে বাধা দেয়। সমীক্ষায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে আলঝেইমারের জন্য সাধারণভাবে ব্যবহৃত অন্যান্য মস্তিষ্কের মার্কারের চেয়ে এই বাধাগুলি আগে সনাক্ত করা যেতে পারে, যা আগে হস্তক্ষেপের জন্য একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করে।
মস্তিষ্কের বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা, প্রায়শই নিষ্কাশন পাইপের একটি অত্যাধুনিক নেটওয়ার্কের সাথে তুলনা করা হয়, নিউরনের কার্যকারিতার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন এই সিস্টেমটি দুর্বল হয়ে যায়, তখন অ্যামাইলয়েড বিটা এবং টাউ-এর মতো বিষাক্ত প্রোটিন জমা হতে পারে, যা আলঝেইমার রোগের বিকাশে অবদান রাখে। স্ট্যান্ডার্ড এমআরআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাধাগুলি কল্পনা করার ক্ষমতা এই আবিষ্কারটিকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে, কারণ এটি প্রাথমিক সনাক্তকরণের জন্য একটি অ-আক্রমণকারী এবং সহজে অ্যাক্সেসযোগ্য পদ্ধতি সরবরাহ করে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ডঃ [কাল্পনিক নাম] ব্যাখ্যা করেছেন, "এই বর্ধিত পেরিবাস্কুলার স্পেসগুলি মূলত মস্তিষ্কের পরিষ্করণ ব্যবস্থার ভাঙ্গনের দৃশ্যমান প্রকাশ। "তাদের উপস্থিতি, বিশেষ করে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অঞ্চলে, পরবর্তী জীবনে আলঝেইমার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।"
এই গবেষণার প্রভাব চিকিৎসা ইমেজিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষেত্রেও প্রসারিত। এআই অ্যালগরিদমগুলিকে এমআরআই স্ক্যানগুলিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বর্ধিত পেরিবাস্কুলার স্পেসগুলি সনাক্ত এবং পরিমাণ নির্ধারণের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়াকে সুগম করে এবং নির্ভুলতা উন্নত করে। এআই-এর এই প্রয়োগটি উল্লেখযোগ্যভাবে রেডিওলজিস্টদের কাজের চাপ কমাতে পারে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে আলঝেইমারের ঝুঁকি আগে সনাক্ত করতে সক্ষম করে।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে, আলঝেইমারের ঝুঁকির প্রাথমিক সনাক্তকরণ বেশ কয়েকটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে জীবনযাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে, ক্লিনিকাল ট্রায়ালে অংশ নিতে এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করতে দেয়। উপরন্তু, উদীয়মান থেরাপির মাধ্যমে পূর্বে হস্তক্ষেপ রোগের অগ্রগতিকে ধীর করে দিতে পারে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে।
আলঝেইমার গবেষণার সর্বশেষ অগ্রগতি ক্রমবর্ধমানভাবে প্রতিরোধমূলক কৌশল এবং প্রাথমিক হস্তক্ষেপের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। অ্যামাইলয়েড বিটা এবং টাউ প্রোটিনকে লক্ষ্য করে এমন ওষুধের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করার জন্য বর্তমানে বেশ কয়েকটি ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। একটি প্রাথমিক মার্কার হিসাবে বর্ধিত পেরিবাস্কুলার স্পেসের আবিষ্কার সেই ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে যারা এই থেরাপি থেকে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
এনটিইউ সিঙ্গাপুরের গবেষকরা এখন এমআরআই স্ক্যান বিশ্লেষণ করতে এবং আলঝেইমার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে এআই-চালিত সরঞ্জাম তৈরি করার দিকে মনোনিবেশ করছেন। তারা বর্ধিত পেরিবাস্কুলার স্পেসের অগ্রগতি এবং জ্ঞানীয় পতনের সাথে তাদের সম্পর্ক ট্র্যাক করার জন্য অনুদৈর্ঘ্য অধ্যয়নও পরিচালনা করছেন। লক্ষ্য হল ডায়াগনস্টিক মানদণ্ডকে পরিমার্জন করা এবং আলঝেইমার রোগের সূত্রপাত প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করার জন্য ব্যক্তিগতকৃত হস্তক্ষেপ তৈরি করা।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment