শনিবার সকালে একটি খবরে বিশ্ব হতবাক হয়ে গিয়েছিল: মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি সংক্ষিপ্ত ঘোষণায় নিশ্চিত করেছেন যে মাদুরোকে নিউইয়র্কের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে একটি সামরিক জাহাজে তাকে রাখা হয়েছে। এটি কোনো আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাত ছিল না, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা উত্তেজনার চূড়ান্ত পরিণতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে একটি ভূ-রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছিল।
এই ঘটনার বীজ অনেক আগে বোনা হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্বাচনী অনিয়ম এবং দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছে। ভেনেজুয়েলা, একসময় লাতিন আমেরিকার অন্যতম ধনী দেশ ছিল, দেশটি হাইপারইনফ্লেশন, মৌলিক পণ্যের অভাব এবং ব্যাপক অভিবাসনের শিকার হয়েছে। মাদুরোকে পদত্যাগ করতে চাপ দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, বিরোধী নেতা জুয়ান গুয়াইডোকে বৈধ অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো কেবল দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যার ফলে আরও অস্থিরতা এবং অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সামরিক পদক্ষেপের দিকে উত্তেজনা বৃদ্ধি ধীরে ধীরে হলেও সুস্পষ্ট ছিল। ওয়াশিংটন থেকে বাগাড়ম্বর ক্রমশ কঠোর হতে থাকে, যেখানে হস্তক্ষেপের গোপন হুমকি দেওয়া হয়। এই অঞ্চলে সামরিক মহড়া চালানো হয়েছিল এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জোরদার করা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এর ন্যায্যতা ছিল পশ্চিমা গোলার্ধে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং ভেনেজুয়েলাকে অবৈধ কার্যকলাপের আশ্রয়স্থল হতে বাধা দেওয়া।
মাদুরোর গ্রেপ্তার নিজেই একটি বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ ছিল, যেখানে ভেনেজুয়েলার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। যদিও বিশদ বিবরণ এখনও অপ্রতুল, মনে করা হয় যে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কমাতে এই অভিযানটি সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং কার্যকর করা হয়েছিল। মার্কিন সরকার যুক্তি দিয়েছে যে এটি একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ ছিল, ভেনেজুয়েলার উপর পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ নয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিষয়ে গভীরভাবে বিভক্ত। কিছু দেশ মার্কিন পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে, এটিকে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অন্যরা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে নিন্দা করেছে। জাতিসংঘ শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য সমস্ত পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। মাদুরোর গ্রেপ্তার একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি করেছে এবং তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা স্পষ্ট নয়। গুয়াইডোর নেতৃত্বে বিরোধী দল একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশা করছে। তবে, দেশটি গভীরভাবে বিভক্ত, এবং আরও সহিংসতা ও অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে। এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। মাদুরোর গ্রেপ্তার দ্রুত একটি সমাধান আনার উদ্দেশ্যে করা হলেও, এটি সম্ভাব্য পরিণতির একটি প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment