২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা করেন, যা ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। হোয়াইট হাউস থেকে শনিবারের প্রথম দিকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ঘোষণাটি ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডের মধ্যে একটি বৃহৎ আকারের মার্কিন হামলার পরে করা হয়েছে।
মাদুরোর গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার চূড়ান্ত পরিণতি, যা বছরের পর বছর ধরে চলছিল এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে পরিচালিত মাদক পাচারকারী জাহাজগুলোতে বোমা হামলা চালাচ্ছিল, একই সাথে এই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছিল।
মার্কিন সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মাদক পাচারের অভিযোগ করে আসছে। ভেনেজুয়েলার সরকার ধারাবাহিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং তার জাতীয় সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখে।
এই পরিস্থিতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ থেকে নিন্দা জানিয়েছে। অনেক লাতিন আমেরিকার দেশ মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, আশঙ্কা করছে যে এটি এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং ভবিষ্যতের হস্তক্ষেপের জন্য একটি নজির স্থাপন করতে পারে। "আমরা বলপ্রয়োগ এবং আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন," ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের একজন প্রতিনিধি বলেছেন। "ভেনেজুয়েলার জটিল চ্যালেঞ্জগুলোর একমাত্র কার্যকর সমাধান হল সংলাপ এবং কূটনীতি।"
ভেনেজুয়েলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র রাশিয়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রকের একজন মুখপাত্র মাদুরোর গ্রেপ্তারকে "আগ্রাসনের কাজ" বলে অভিহিত করেছেন এবং অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছেন। চীনও একই ধরনের sentiments প্রকাশ করেছে, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ওপর জোর দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলা বেশ কয়েক বছর ধরে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবিক জরুরি অবস্থার সাথে লড়াই করছে। মাদুরোর সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপের সম্মুখীন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে মাদুরোকে পদত্যাগে চাপ দেওয়ার জন্য ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও দেশটির জন্য তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি, তবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, অনেকে সংযম এবং সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আগামী দিনে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি অধিবেশন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment