জার্মান ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান নিউট্রিশন পটসডাম-রেহব্রুকে (DIfE) এবং Charité -- Universitätsmedizin Berlin কর্তৃক ৩ জানুয়ারী, ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্যালোরি গ্রহণ কমানো ছাড়া সময়-সীমাবদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করলে তা উল্লেখযোগ্য বিপাকীয় বা কার্ডিওভাসকুলার সুবিধা প্রদান করে না। গবেষণাটি জনপ্রিয় ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জ করে যে, বিরতিমূলক উপবাস, বিশেষ করে আট ঘণ্টার মধ্যে খাবার গ্রহণ, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং হৃদরোগের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
Deutsches Zentrum fuer Diabetesforschung DZD-এর গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত এই গবেষণাটি সময়-সীমাবদ্ধ খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে যখন ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ একই থাকে। অংশগ্রহণকারীরা আট ঘণ্টার মধ্যে খাবার গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাদের সামগ্রিক ক্যালোরি গ্রহণ কমানো হয়নি। ফলাফলে দেখা গেছে যে খাবারের সময়ের উপর ভিত্তি করে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি পরিবর্তিত হলেও, যার ফলে ঘুমের ধরনে পরিবর্তন আসে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বা কার্ডিওভাসকুলার মার্কারগুলির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
DIfE-এর গবেষক এবং গবেষণার প্রধান লেখক ড. [কাল্পনিক নাম] বলেন, "আমাদের গবেষণা থেকে জানা যায় যে বিরতিমূলক উপবাসের কারণে প্রায়শই যে বিপাকীয় সুবিধাগুলোর কথা বলা হয়, তা সম্ভবত ক্যালোরি হ্রাসের কারণেই হয়ে থাকে, খাবারের সময়ের কারণে নয়।" "আমাদের খাবার গ্রহণের সময়ের দ্বারা শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দ প্রভাবিত হয়, তবে ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলে এই পরিবর্তনের ফলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় না।"
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওজন হ্রাস, উন্নত বিপাকীয় স্বাস্থ্য এবং এমনকি আয়ু বৃদ্ধির দাবির কারণে বিরতিমূলক উপবাসের ধারণাটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এর প্রস্তাবকরা প্রায়শই মনে করেন যে খাবার গ্রহণের সময় সীমিত করলে শরীর আরও দক্ষতার সাথে ফ্যাট বার্ন করতে পারে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতার উন্নতি ঘটাতে পারে। তবে, এই নতুন গবেষণা ক্রমবর্ধমান প্রমাণের সাথে যোগ করে যে ক্যালোরি হ্রাস সম্ভবত এই সুবিধাগুলোর মূল কারণ।
এই গবেষণার ফলাফল খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বৃহত্তর সামাজিক আলোচনার উপর প্রভাব ফেলে। যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যক্তিগতকৃত পুষ্টিতে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা পালন করছে, তাই বিভিন্ন খাদ্যতালিকাগত পদ্ধতির অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়াগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AI-চালিত অ্যাপ এবং প্ল্যাটফর্মগুলো প্রায়শই বিরতিমূলক উপবাসের সুপারিশ করে, এই ধারণার উপর ভিত্তি করে যে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিপাকীয় উন্নতি ঘটাবে। এই গবেষণাটি ব্যক্তিগত ক্যালোরির চাহিদা বিবেচনা করার এবং AI-চালিত সুপারিশগুলো যেন কঠিন বৈজ্ঞানিক প্রমাণের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে।
[কাল্পনিক বিশ্ববিদ্যালয়]-এর এআই এথিক্স গবেষক [কাল্পনিক বিশেষজ্ঞের নাম] ব্যাখ্যা করেছেন, "এআই অ্যালগরিদমগুলো খাদ্যতালিকা বিষয়ক সুপারিশগুলোকে ব্যক্তিগতকৃত করতে বিশাল পরিমাণে ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে, তবে এগুলো সেই ডেটার মতোই ভালো যেগুলোর উপর ভিত্তি করে এগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।" "যদি বিরতিমূলক উপবাস সম্পর্কে অন্তর্নিহিত ধারণাগুলো ত্রুটিপূর্ণ হয়, তাহলে এআই সেই ত্রুটিগুলোকেই টিকিয়ে রাখবে, যা সম্ভাব্যভাবে অকার্যকর বা এমনকি ক্ষতিকারক খাদ্যতালিকার পরামর্শের দিকে পরিচালিত করবে।"
গবেষণাটি বিপাকীয় স্বাস্থ্যে সার্কাডিয়ান ছন্দের ভূমিকা সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলে। যদিও গবেষকরা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িতে পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন, তবে এই পরিবর্তন পরিমাপযোগ্য স্বাস্থ্য সুবিধাতে রূপান্তরিত হয়নি। খাবার গ্রহণের সময়, সার্কাডিয়ান ছন্দ এবং বিপাকীয় কার্যকলাপের মধ্যে জটিল সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতের গবেষণা ক্যালোরি হ্রাসের সাথে মিলিতভাবে সময়-সীমাবদ্ধ খাদ্যাভ্যাসের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো অন্বেষণ করার পাশাপাশি পৃথক সার্কাডিয়ান ছন্দ অনুসারে খাবারের সময় নির্ধারণের সম্ভাব্য সুবিধাগুলো তদন্ত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। গবেষকরা খাদ্যতালিকা এবং বিপাকীয় তথ্যের বৃহৎ ডেটা সেট বিশ্লেষণ করতে এআই-চালিত সরঞ্জাম ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন, যার লক্ষ্য আরও ব্যক্তিগতকৃত এবং কার্যকর খাদ্যতালিকা বিষয়ক হস্তক্ষেপ তৈরি করা।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment