ভেনিজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো, মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর শনিবার নিউ ইয়র্কে এসে পৌঁছেছেন। মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের নিউবার্গের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসে নিয়ে যাওয়া হয়, এরপর পূর্বনির্ধারিত আদালতের শুনানির জন্য ম্যানহাটনে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই আগমনটি ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পরপরই ঘটেছে। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মানুষের দেখা সবচেয়ে বড় আক্রমণ" বলে বর্ণনা করেছেন। পাম বিচ, ফ্লোরিডার মার-এ- লাগোতে এক প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্প বলেন, মাদুরোর অপসারণের পর ভেনিজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনও সীমিত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ ভেনিজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক সংকটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বছরের পর বছর ধরে, দেশটি অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মাদুরোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনকে উৎসাহিত করার জন্য নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু দেশ ভেনিজুয়েলার মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যান্য দেশ এই হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছে। ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও অনিশ্চিত।
ম্যানহাটনের আদালতে মাদুরোর হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে এবং সেখানে তার বিরুদ্ধে অফিসে থাকাকালীন দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হতে পারে। মার্কিন সরকার এখনও অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস, যিনি আটক হয়েছেন বলে জানা গেছে, তার ভবিষ্যৎ এখনও অস্পষ্ট।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment