রাটার্স ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে মানুষের মস্তিষ্ক দ্রুত প্রতিক্রিয়াগুলোকে ধীর, আরও ইচ্ছাকৃত চিন্তাভাবনার সাথে সমন্বিত করতে একটি জটিল, বহু-গতির টাইমিং সিস্টেম ব্যবহার করে। ৩ জানুয়ারি, ২০২৬-এ প্রকাশিত গবেষণাটি প্রকাশ করে যে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চল স্বতন্ত্র অভ্যন্তরীণ ঘড়িতে কাজ করে এবং এই বিভিন্ন সময়কালের মধ্যে তথ্য প্রেরণের জন্য হোয়াইট ম্যাটার সংযোগের উপর নির্ভর করে।
গবেষণা অনুসারে, মস্তিষ্ক যে দক্ষতার সাথে এই টাইমিং সিস্টেমগুলিকে সমন্বিত করে, তা জ্ঞানীয় নমনীয়তা, দক্ষতা এবং সামগ্রিক মানসিক ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে বলে মনে হয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে এই টাইমিং ব্যবস্থার সংগঠন আচরণের সাথে সম্পর্কিত কার্যকলাপের মধ্যে মস্তিষ্ক কতটা কার্যকরভাবে পরিবর্তিত হয় তা প্রভাবিত করে। টাইমিং সিস্টেমে এই পার্থক্যগুলি পৃথক ব্যক্তির মধ্যে জ্ঞানীয় ক্ষমতার বিভিন্নতার কারণ হতে পারে।
মস্তিষ্ক ক্রমাগত বিভিন্ন গতিতে আসা তথ্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলে, মুহূর্তের মধ্যে করা প্রতিক্রিয়াগুলোকে আরও চিন্তাশীল প্রক্রিয়াকরণের সাথে মিশ্রিত করে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে জটিল সমস্যা সমাধানে জড়িত হওয়া পর্যন্ত দৈনন্দিন কাজের জন্য এই জটিল সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাটি মস্তিষ্কের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক হোয়াইট ম্যাটারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উপর জোর দেয়, যা এই ভিন্ন অভ্যন্তরীণ ঘড়িগুলিকে সিঙ্ক্রোনাইজ করে।
রাটার্স ইউনিভার্সিটির একজন প্রধান গবেষক বলেছেন, "আমাদের অনুসন্ধানগুলি থেকে বোঝা যায় যে মস্তিষ্কের স্পষ্টভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা নির্ভর করে দ্রুত প্রতিক্রিয়াগুলি ধীর, চিন্তাশীল প্রক্রিয়াকরণের সাথে কতটা ভালোভাবে সিঙ্ক করে তার উপর।" গবেষণা দল মনে করে যে এই টাইমিং সিস্টেমের গভীরতর ধারণা জ্ঞানীয় ব্যাধি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে এবং সম্ভাব্য নতুন থেরাপিউটিক হস্তক্ষেপের দিকে পরিচালিত করতে পারে।
এই গবেষণার তাৎপর্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও প্রসারিত, বিশেষ করে আরও অত্যাধুনিক এআই সিস্টেমের বিকাশে। বর্তমান এআই মডেলগুলি প্রায়শই মানুষের মস্তিষ্ক যে সূক্ষ্ম সময় এবং তথ্যের সংহতকরণ সহজে অর্জন করে, তা প্রতিলিপি করতে সংগ্রাম করে। মস্তিষ্কের টাইমিং প্রক্রিয়াগুলি বোঝার মাধ্যমে, গবেষকরা এমন এআই সিস্টেম ডিজাইন করার আশা করছেন যা আরও দক্ষতার সাথে এবং অভিযোজিতভাবে তথ্য প্রক্রিয়া করতে পারে।
এই টাইমিং সিস্টেম বয়সের সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং স্নায়বিক অবস্থার দ্বারা এটি কীভাবে প্রভাবিত হয়, তা তদন্ত করার জন্য আরও গবেষণা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের উদ্দীপনা কৌশল ব্যবহার করে এই অভ্যন্তরীণ ঘড়িগুলির সমন্বয় বাড়ানো এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা উন্নত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। চলমান কাজটির লক্ষ্য মস্তিষ্কের টাইমিং সিস্টেমের জটিলতা এবং মানুষের চিন্তা ও আচরণের উপর এর প্রভাব উন্মোচন করা।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment