ভেনেজুয়েলার উপর আকস্মিক হামলা, এর নেতা নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণা যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটি পরিচালনা করবে এবং এর তেল বিক্রি করবে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি চিহ্নিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক নিন্দা আকর্ষণ করেছে। পর্যবেক্ষকরা এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও বিশ্বব্যাপী রীতিনীতির প্রতি নির্লজ্জ অবজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সূত্রের খবর অনুযায়ী, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, ২০১৬ সালের শুরুতে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনার পরে শুরু হয়েছিল। এই উত্তেজনার কারণ ছিল মাদুরোর স্বৈরাচারী শাসন এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক অস্থিরতা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সূত্রের খবর অনুযায়ী, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, সেই অনুযায়ী এই হামলায় কারাকাসের প্রধান সরকারি স্থাপনা ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবস্থান এখনও অজানা, যদিও ট্রাম্প হামলার পরপরই একটি সংবাদ সম্মেলনে তাদের আটকের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, "আমরা শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি এবং নিশ্চিত করছি যে ভেনেজুয়েলার জনগণ অবশেষে তাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে উপকৃত হবে।"
যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ন্যায্যতা ছিল মার্কিন জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা রোধের দাবির উপর কেন্দ্র করে। তবে সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে আগ্রাসন এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছেন। সিনিয়র আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা জুলিয়ান বোর্জার উল্লেখ করেছেন যে "ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইনের ক্রমবর্ধমান ভঙ্গুর ভিত্তির মধ্যে বুলডোজারের কনভয় চালাচ্ছেন।"
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংকট মোকাবেলায় জরুরি অধিবেশন ডেকেছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংযম এবং কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। ইইউ-এর পররাষ্ট্র বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের নীতি এবং জাতিসংঘ সনদকে দুর্বল করে।"
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এখনও অস্থির, যেখানে সরকারপন্থী ও সরকারবিরোধী দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আগামী দিনে বাড়বে, যা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন হস্তক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও দেখার বিষয়, তবে অনেক পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতির আরও ক্ষয় এবং শক্তিশালী দেশগুলোর দ্বারা একতরফা পদক্ষেপের উত্থানের আশঙ্কা করছেন। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব ব্যবস্থার উপর এর ব্যাপক প্রভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সরকারগুলো এই ঘটনাগুলোর উপর কড়া নজর রাখছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment