যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর ব্যবহৃত সিরিয়ার একটি ভূগর্ভস্থ অস্ত্রের ভাণ্ডারে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে, যা সম্ভবত গোষ্ঠীটির সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে। শনিবারের শেষ দিকে এই হামলাটি পালমিরার উত্তরে পাহাড়ে অবস্থিত একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়, যা মধ্য সিরিয়ার একটি প্রাচীন স্থান।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) জানিয়েছে যে "সতর্ক" গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন যে ওই স্থাপনাটিতে অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুদ করা হচ্ছিল। রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন জেটগুলি, একটি ভয়েজার রিফুয়েলিং ট্যাংকারের সহায়তায়, ওই স্থাপনার প্রবেশ টানেলগুলিকে লক্ষ্য করে পেভওয়ে IV গাইডেড বোমা ব্যবহার করে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে এবং কোনো বেসামরিক নাগরিকের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। হামলার বিস্তারিত মূল্যায়ন বর্তমানে চলছে।
অস্ত্রের ভাণ্ডার সম্পর্কিত নির্দিষ্ট আর্থিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও, এ ধরনের একটি স্থাপনা ধ্বংসের ফলে আইএসের কর্মক্ষমতা এবং আর্থিক সম্পদের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। ধ্বংস হওয়া অস্ত্র পুনর্নির্মাণ বা প্রতিস্থাপনের খরচ সম্ভবত গোষ্ঠীটির আর্থিক অবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করবে, যা তাদের হামলা চালানোর এবং অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের এই অভিযানের খরচও উল্লেখযোগ্য, কারণ এতে অত্যাধুনিক বিমান এবং গোলাবারুদ, সেইসাথে গোয়েন্দা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ জড়িত।
সিরিয়া ও ইরাকে আইএস-এর বিরুদ্ধে চলমান প্রচেষ্টার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এই হামলাটি চালানো হয়েছে। একসময় যে গোষ্ঠীটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিন্তু বিদ্রোহী হামলা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে এখনও হুমকি সৃষ্টি করে চলেছে। অস্ত্র ও সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের প্রবেশাধিকার ব্যাহত করা তাদের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর বাজার প্রভাব প্রতিরক্ষা খাতে অনুভূত হচ্ছে, গাইডেড বোমা ও রিফুয়েলিং ট্যাংকার উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো এ ধরনের অভিযান থেকে লাভবান হচ্ছে।
এই হামলায় যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রতি তাদের অঙ্গীকার এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্রদের সাথে কাজ করার ইচ্ছাকে তুলে ধরে। পেভওয়ে IV গাইডেড বোমার মতো উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে তুলে ধরে। রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন এফজিআর৪এস বিমানগুলোকে একটি ভয়েজার রিফুয়েলিং ট্যাংকার সহায়তা করেছিল। আইএস সিরিয়া ও ইরাকের কিছু অংশে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জিহাদি শাসন চাপিয়েছিল।
ভবিষ্যতে, আইএস-এর আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কগুলোকে ব্যাহত করার জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা তাদের পুনরুত্থান রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এর জন্য সম্ভবত সামরিক অভিযান, গোয়েন্দা সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সংমিশ্রণ প্রয়োজন হবে। পালমিরার কাছে অস্ত্রের ভাণ্ডারটিকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো এই দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তবে আইএস-এর দীর্ঘমেয়াদী পরাজয় নিশ্চিত করার জন্য অবিরাম সতর্কতা এবং সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment