জানুয়ারি ৩, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে চলা একটি অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে। এনপিআর-এর "অল থিংস কনসিডারড"-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানে ১৫০টি বিমান এবং ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়।
এই অভিযান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এখনও সীমিত, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপগুলি উচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। মাদুরোর গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ইতিমধ্যেই থাকা উত্তেজনাকর সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, "যতক্ষণ না আমরা একটি নিরাপদ, সঠিক এবং বিচক্ষণ পরিবর্তন করতে পারছি, ততক্ষণ আমরা দেশ চালাব। আমরা চাই না অন্য কেউ এসে যুক্ত হোক এবং আমরা সেই একই পরিস্থিতিতে পড়ি যা গত দীর্ঘ সময় ধরে ছিল।" একটি আর্কাইভ করা রেকর্ডিং-এ ট্রাম্পের এই বক্তব্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ভেনেজুয়েলার উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অভিপ্রায় নির্দেশ করে।
মার্কিন সামরিক অভিযানের পেছনের উদ্দেশ্য ভেনেজুয়েলার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের গভীরে প্রোথিত। মাদুরোর সরকার দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দেশের তেল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে অভিযুক্ত, যার ফলে ব্যাপক দারিদ্র্য ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। মাদুরোকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের এবং সংস্থাগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এই সামরিক হস্তক্ষেপের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। একটি বিদেশি শক্তি কর্তৃক একজন ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসমূহের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, যেখানে অস্থিতিশীলতা এবং একটি আরও গণতান্ত্রিক সরকারের দিকে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, এবং অনেক দেশ সংকটের শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment