আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ নিউরোলজি কর্তৃক ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, যেসব বয়স্ক ব্যক্তি অনিয়মিত দৈনিক কাজকর্মের চক্রের সম্মুখীন হন, তাঁদের ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২,০০০-এর বেশি ব্যক্তির সার্কাডিয়ান রিদম বা দৈনন্দিন ছন্দ অনুসরণ করে করা এই গবেষণা থেকে জানা যায় যে দুর্বল বা অনিয়মিত শারীরিক ঘড়ি স্মৃতিভ্রংশের একটি প্রাথমিক সতর্কীকরণ সংকেত হতে পারে।
প্রায় ১২ দিন ধরে চালিত এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা ছোট মনিটর পরেছিলেন, যা তাঁদের দৈনিক বিশ্রাম এবং কাজকর্মের ধরন নিখুঁতভাবে রেকর্ড করে। গবেষকরা দেখেছেন যে দুর্বল, আরও খণ্ডিত ছন্দযুক্ত ব্যক্তি অথবা দিনের শেষভাগে যাদের শক্তি বেশি থাকে, তাঁদের মধ্যে নিয়মিত রুটিনযুক্ত ব্যক্তিদের তুলনায় ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই ফলাফলগুলি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রাকৃতিক ঘুম এবং কাজকর্মের চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার সম্ভাব্য গুরুত্বের উপর জোর দেয়।
গবেষণার প্রধান লেখক এবং [কাল্পনিক প্রতিষ্ঠান]-এর নিউরোলজিস্ট ডাঃ [কাল্পনিক নাম] বলেছেন, "এই ফলাফলগুলি স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উপর আলোকপাত করে। যদিও অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়াগুলি সম্পূর্ণরূপে বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন, এই গবেষণা থেকে জানা যায় যে সার্কাডিয়ান রিদমকে শক্তিশালী করার জন্য পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করার জন্য একটি মূল্যবান কৌশল হতে পারে।"
মস্তিষ্কের সুপ্রাকিয়াসম্যাটিক নিউক্লিয়াস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সার্কাডিয়ান রিদম বা দৈনন্দিন ছন্দের ধারণাটি কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি মৌলিক জৈবিক প্রক্রিয়া যা বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে পরিলক্ষিত হয় এবং ঘুম-জাগার চক্র থেকে শুরু করে হরমোন নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত সবকিছুকে প্রভাবিত করে। এই ছন্দে ব্যাঘাত প্রায়শই শিফট-ভিত্তিক কাজ, জেট ল্যাগ বা কৃত্রিম আলোর সংস্পর্শের কারণে ঘটে এবং এটি বিপাকীয় ব্যাধি, হৃদরোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে যুক্ত।
বিশ্বব্যাপী, ডিমেনশিয়ার প্রকোপ একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়, বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং পূর্ব এশিয়ার বয়স্ক জনসংখ্যার মধ্যে। সাংস্কৃতিক অনুশীলন এবং সামাজিক রীতিনীতি ঘুমের ধরন এবং দৈনিক রুটিনকে প্রভাবিত করতে পারে, যা সম্ভবত সার্কাডিয়ান রিদমের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ভূমধ্যসাগরীয় এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলিতে সিয়েস্তা বা দ্বিপ্রাহরিক ঘুমের ঐতিহ্য ঘুমের সময় এবং সময়কালকে প্রভাবিত করতে পারে, যেখানে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব এবং সার্কাডিয়ান ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ডিমেনশিয়াকে একটি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক অগ্রাধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তাঁদের সেবাদানকারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য সক্রিয়ভাবে গবেষণা এবং উদ্যোগ প্রচার করছে। এই নতুন গবেষণা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির কারণগুলির জটিল পারস্পরিক ক্রিয়ার মধ্যে আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভবিষ্যতের গবেষণা বিশেষভাবে সেই প্রক্রিয়াগুলি অনুসন্ধানের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে, যার মাধ্যমে সার্কাডিয়ান ছন্দের ব্যাঘাত মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে এবং শরীরের ঘড়িকে শক্তিশালী করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি হস্তক্ষেপ তৈরি করা যায়। এই হস্তক্ষেপগুলির মধ্যে জীবনযাত্রার পরিবর্তনগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যেমন ঘুমের সময়সূচী তৈরি করা এবং প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শে আসা, সেইসাথে সার্কাডিয়ান রিদম জিনগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে ফার্মাকোলজিক্যাল পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। গবেষকরা আশা করছেন যে সার্কাডিয়ান ছন্দের অস্বাভাবিকতাগুলি আগেভাগে চিহ্নিত করে এবং সমাধান করে ডিমেনশিয়ার বিশ্বব্যাপী বোঝা কমানো সম্ভব হতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment