তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক কার্যকলাপের মধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অপহরণের পর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ (৫৬) অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পরপরই রদ্রিগেজ শপথ গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় কারাকাস এবং ভেনেজুয়েলার অন্যান্য এলাকা আক্রান্ত হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর প্রতি মনোযোগ না দিয়ে রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অক্টোবরে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর মাচাদো ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন এবং ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে তিনি মাদুরোর উত্তরসূরি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের প্রার্থী হবেন।
ডেলসি এলোইনা রদ্রিগেজ গোমেজ বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে একটি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যোগাযোগ ও তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন মাদুরো সরকারের সমাজতান্ত্রিক নীতি এবং হুগো শ্যাভেজের legacy-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাদুরো প্রশাসনের একজন কট্টর সমর্থক এবং প্রায়শই ভেনেজুয়েলার বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন।
মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এবং রদ্রিগেজের অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক অভিনেতা নিন্দা জানিয়েছেন। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং মাদুরোকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ তারা এই পরিস্থিতিকে ভেনেজুয়েলার সরকারকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং সংঘাত আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কার প্রতিফলন।
ভেনেজুয়েলা বেশ কয়েক বছর ধরে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে লড়াই করছে। মাদুরো সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সেই সঙ্গে বাহ্যিক চাপ দেশটির চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মাদুরোর অপহরণ এবং মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ দেশটিকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মাদুরোর বর্তমান অবস্থা এখনও অস্পষ্ট, এবং মার্কিন সরকার তার অপহরণের কারণ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কোনো বিবৃতি দেয়নি। রদ্রিগেজের অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভূমিকা সম্ভবত বিরোধীদের দ্বারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হবে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নতুন নেতৃত্বের বৈধতা ও স্থিতিশীলতা মূল্যায়ন করার জন্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে সম্ভবত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এবং ভেনেজুয়েলা ও বিদেশে চলমান বিক্ষোভ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment