প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী নেতা মার্কো রুবিও এবং অন্যান্যরা ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়কালে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শাসনের বিষয়ে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার শাসনভার গ্রহণ করবে। মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আদালতে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি করার জন্য যে অভিযান চালানো হয়েছে, রুবিও সেই অভিযানকে সমর্থন করেছেন।
শনিবারের প্রথম দিকে হওয়া এই অভিযান নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে রুবিও রবিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সমালোচকরা এই অভিযানকে অবৈধ বলছেন, এবং হোয়াইট হাউস এখনও স্পষ্ট করেনি যে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে।
এবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিওকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নেবে কিনা। জবাবে তিনি বলেন, দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা চালাবে এমন কথা তিনি বলেননি।
মাদুরোকে আটকের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে বহু বছরের উত্তেজনাকর সম্পর্কের ফল, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং মাদুরোর স্বৈরাচারী শাসনের অভিযোগ দ্বারা চিহ্নিত। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার অভিযোগ করে আসছে।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি বছরের পর বছর ধরে খারাপ হচ্ছে, দেশটিতে খাদ্য, ওষুধ এবং মৌলিক necessities-এর ব্যাপক অভাব দেখা দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ ভেনেজুয়েলান দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, যা একটি আঞ্চলিক শরণার্থী সংকট তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর সরকারের একজন সোচ্চার সমালোচক এবং ২০১৯ সালে নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে সমর্থন করেছে।
মাদুরোকে আটকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের আইনি ভিত্তি এখনও স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারা সার্বভৌমত্ব এবং বলপ্রয়োগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউস এখনও এই অভিযানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দী থাকায় দেশটি একটি ক্ষমতার শূন্যতার সম্মুখীন। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কে দেশটির নেতৃত্ব দেবে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী রূপ নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment