প্যারিসের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়, সায়েন্সেস পো সেন্ট-জার্মেইন, একটি বিশেষ ডিপ্লোমা প্রদান করে যা সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ফরাসি গোপন সংস্থাগুলোর সক্রিয় সদস্য উভয়কেই প্রশিক্ষণ দেয়। ডিপ্লোমা সুর লে রেনসেইগমেন্ট এ লে মেনাস গ্লোবাল (ডিপ্লোমা অফ ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড গ্লোবাল থ্রেট) নামে পরিচিত এই কোর্সটি ২০-এর দশকের প্রথম দিকের শিক্ষার্থী এবং সাধারণত ৩৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী গোয়েন্দা এজেন্টদের একত্রিত করে।
অধ্যাপক জাভিয়ের ক্রেটিয়েজ, যিনি এই কোর্সে শিক্ষাদান করেন, প্রোগ্রামের অস্বাভাবিক প্রকৃতি স্বীকার করে বলেন যে তিনি প্রায়শই নথিভুক্ত গোয়েন্দা এজেন্টদের আসল নাম জানেন না। তিনি বলেন, "যখন গোয়েন্দা এজেন্টদের কোর্সে পাঠানো হয়, তখন আমি খুব কমই তাদের পটভূমি জানি এবং আমার সন্দেহ হয় যে আমাকে যে নামগুলো দেওয়া হয় সেগুলো আসল।"
বিবিসি-র মতে, এর বিষণ্ণ, ২০ শতকের প্রথম দিকের ভবন এবং বিচক্ষণ অনুভূতি সহ ক্যাম্পাসটি নিজেই এই ধরনের একটি প্রোগ্রামের জন্য উপযুক্ত স্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এবং স্থাপত্য গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার একটি পরিবেশ তৈরি করে।
পাঠ্যক্রমটির লক্ষ্য হল একাডেমিক তত্ত্বের সাথে ব্যবহারিক প্রয়োগের সংমিশ্রণে গোয়েন্দাগিরি এবং বিশ্বব্যাপী হুমকি সম্পর্কে একটি বিস্তৃত ধারণা প্রদান করা। কোর্সের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু গোপন রাখা হলেও, এটা ধারণা করা হয় যে এতে ভূ-রাজনীতি, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই ধরনের একটি প্রোগ্রামের অস্তিত্ব ২১ শতকে গোয়েন্দা প্রশিক্ষণের বিবর্তনকে তুলে ধরে। যেহেতু বিশ্বব্যাপী হুমকি আরও জটিল এবং প্রযুক্তিগতভাবে চালিত হচ্ছে, তাই গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে বিভিন্ন দক্ষতা এবং একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিদের খুঁজছে। সায়েন্সেস পো সেন্ট-জার্মেইনের এই প্রোগ্রামটি ঐতিহ্যবাহী গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক বিশ্বের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান পূরণের একটি প্রচেষ্টা।
গোয়েন্দা প্রশিক্ষণে এআই (AI) অন্তর্ভুক্ত করার প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ। এআই অ্যালগরিদমগুলি বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণ করে প্যাটার্ন সনাক্ত করতে এবং সম্ভাব্য হুমকির পূর্বাভাস দিতে পারে, যা গোয়েন্দা কার্যক্রমের দক্ষতা এবং কার্যকারিতা বাড়ায়। তবে, গোয়েন্দাগিরিতে এআই-এর ব্যবহার নৈতিক উদ্বেগেরও জন্ম দেয়, যেমন পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা এবং গোপনীয়তা হ্রাস।
সায়েন্সেস পো সেন্ট-জার্মেইনের এই প্রোগ্রামটি নতুন হুমকি মোকাবেলা এবং নতুন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ক্রমাগত বিকশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং অত্যাধুনিক গবেষণার সুযোগ প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভবত গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে তার অংশীদারিত্ব প্রসারিত করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment