যুগ্ম চিফস অফ স্টাফ এক বিবৃতিতে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আনুমানিক ৫৬০ মাইল (৯০০ কিমি) পথ অতিক্রম করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে উৎক্ষেপণের বিশদ বিশ্লেষণ করছে। যুগ্ম চিফস অফ স্টাফ আরও জানায়, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আসা যেকোনো উস্কানি মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়া সদা প্রস্তুত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করছে।
এই উৎক্ষেপণ একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে, যা তারা যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মনে করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, কিন্তু তাদের অস্ত্র উন্নয়নকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
লি জে-মিউং-এর চীন সফরকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা হ্রাস এবং কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীন, উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতম প্রধান মিত্র এবং বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় এই অঞ্চলে যথেষ্ট প্রভাব রাখে। তবে, চীন কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণের প্রতি তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
লি-এর সফরের ঠিক আগে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময়টিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন উভয়ের কাছে একটি সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যা উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবিচল সংকল্পকে তুলে ধরে। এটি এই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে জড়িত চ্যালেঞ্জগুলোর একটি অনুস্মারক হিসেবেও কাজ করে।
পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ উত্তর কোরিয়ার কার্যকলাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিয়ে আরও বিশ্লেষণ থেকে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন এবং উৎক্ষেপণের পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সম্ভবত এই উৎক্ষেপণগুলোর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানাবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment