মাডুরোর অপহরণের পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অভিনেতাদের কাছ থেকে নিন্দা কুড়িয়েছে, কেউ কেউ এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরান "শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করবে না," যা উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি ইঙ্গিত।
কারাকাস এবং তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের বিরোধের উৎস ভিন্ন হলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন যে মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পদক্ষেপ ইরানের সাথে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে ছায়া গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ করে আসছে, অন্যদিকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি আগ্রাসন হিসেবে দেখে।
লাতিন আমেরিকাতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে মনরো মতবাদের উল্লেখ, বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মনরো মতবাদ, যা পশ্চিমা গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ন্যায্যতা দিতে ব্যবহৃত হয়েছে।
মাডুরোর অপহরণ এবং ইরানের প্রতি পরবর্তী সতর্কতা বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়ার ঢেউ তুলেছে। কিছু দেশ সংযম এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে, আবার কেউ কেউ মার্কিন অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এবং উত্তেজনা প্রশমনের উপায় খুঁজে বের করার জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৈঠকে বসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে আরও উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment