উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন তত্ত্বাবধান করেছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সোমবার জানিয়েছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA) রবিবার অনুষ্ঠিত মহড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই দিনে প্রতিবেশী দেশগুলো একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথা জানায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-ম্যুং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে শীর্ষ সম্মেলনের জন্য চীন সফরের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাগুলো চালানো হয়। এই পরীক্ষার সময়সূচী কোরীয় উপদ্বীপের ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে এবং উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা মোকাবিলায় আঞ্চলিক শক্তিগুলো যে সূক্ষ্ম ভারসাম্যের মধ্যে রয়েছে, তা তুলে ধরে।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের চেয়ে পাঁচগুণেরও বেশি গতিতে চলতে পারে, তাদের গতি এবং কৌশলগত কারণে বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক উত্তর কোরিয়ার এই প্রযুক্তি অনুসরণ করাকে সরাসরি এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এড়িয়ে গিয়ে তাদের আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
কিম জং উন যে ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন, তা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে চলমান উত্তেজনা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং প্রধান বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন কারণের সংমিশ্রণকে বোঝায়। উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছ থেকে আসা অনুভূত হুমকির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হল নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সম্পর্কিত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভবিষ্যতে আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়ানো। পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির কারণে দেশটি বছরের পর বছর ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে, যা তাদের অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া চেয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে বিভেদ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে, আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে।
পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, এবং উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক উস্কানি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তেজনা কমাতে এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা পুনরায় শুরু করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, তবে এর পথে অনেক বাধা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের নেতাদের মধ্যে আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার এবং সংলাপের সম্ভাব্য পথ অনুসন্ধানের সুযোগ করে দিতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment