ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে তাঁর ভাষায় "হুমকি" বন্ধ করতে বলেছেন। ফ্রেডেরিকসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের ধারণা "একেবারেই অর্থহীন" এবং ডেনমার্ক সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ড্যানিশ সাম্রাজ্যের তিনটি দেশের কোনোটিকেই সংযুক্ত করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।"
ফ্রেডেরিকসেনের এই মন্তব্য ট্রাম্পের সহযোগী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলারের একটি টুইটের পর আসে। কেটি মিলার টুইটে গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র আমেরিকান পতাকার রঙে এঁকে "শীঘ্রই" শব্দটি লিখেছিলেন। ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন ভূখণ্ড করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন, এর কৌশলগত গুরুত্ব এবং খনিজ সম্পদের কথা তুলে ধরেছেন। ফ্রেডেরিকসেনের প্রাথমিক মন্তব্যের পরেও তিনি এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে ডেনমার্ক এবং সেই সূত্রে গ্রিনল্যান্ডও ন্যাটোর সদস্য এবং তাই এটি জোটের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আওতাধীন। তিনি ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশের অধিকার দেয়। উপরন্তু, তিনি আর্কটিক অঞ্চলে ডেনমার্কের বর্ধিত নিরাপত্তা বিনিয়োগের ওপর আলোকপাত করেন। ফ্রেডেরিকসেন বলেন, "তাই আমি দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করব," এরপর উৎস নথিতে বিবৃতিটি অসম্পূর্ণ ছিল।
গ্রিনল্যান্ড কেনার ধারণাটি নতুন নয়। মার্কিন সরকার এর আগেও এই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছে, যার মধ্যে ১৯৪৬ সালের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও ছিল। ডেনমার্ক রাজ্যের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড, যা উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে কৌশলগতভাবে অবস্থিত এবং উল্লেখযোগ্য খনিজ সম্পদের অধিকারী।
পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা অমীমাংসিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করলেও ডেনিশ সরকার দৃঢ়ভাবে এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনাটি আর্কটিক অঞ্চলের জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকায় আরও অগ্রগতি প্রত্যাশিত।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment