আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সোমবার চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। নভেম্বরের পর তাদের দ্বিতীয় এই বৈঠকে চীন তার অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে না বলে দক্ষিণ কোরিয়াকে আশ্বস্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চীন দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, ২০২২ সালে দুই দেশের মধ্যে ৩৬০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। তবে তাইওয়ান নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে সম্পর্ক কিছুটা দুর্বল হয়েছে। লি-এর এই সফরের লক্ষ্য হল ভূ-রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে, সেই বিষয়ে আশ্বাস নিশ্চিত করা। চীনের কোরিয়ান পপ সংস্কৃতির উপর অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা, যার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন শিল্পের আনুমানিক ৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে, সেটিও আলোচনার বিষয় ছিল।
তাইওয়ান নিয়ে চীন ও জাপানের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে সিউলকে এই উত্তেজনাগুলো খুব সাবধানে সামলাতে হবে। চীনের সাথে বাণিজ্যে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, যা সেমিকন্ডাক্টর, অটোমোবাইল এবং ভোগ্যপণ্যের চীনা চাহিদার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
স্যামসাং এবং হুন্দাই সহ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান কর্পোরেশনগুলোর চীনে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, স্যামসাং চীনে বৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনা করে, যা তাদের বিশ্বব্যাপী চিপ উৎপাদনের প্রায় ২৫%। এই অঞ্চলে অস্থিরতা দেখা দিলে সরবরাহ chain-এ ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং এই কোম্পানিগুলোর আর্থিক কর্মক্ষমতা negatively প্রভাবিত হতে পারে।
সামনে লি-এর এই সফরের সাফল্য পরিমাপ করা হবে রাজনৈতিক মতবিরোধের প্রতিক্রিয়ায় চীন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে এবং অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে কতটা ইচ্ছুক তার ওপর ভিত্তি করে। ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির জন্য চীনের সাথে একটি স্থিতিশীল এবং অনুমানযোগ্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment